‘বগা আউটে কিক কর, আউটে কিক কর। আমার দল কখনো পেনাল্টিতে গোল দেয় না’— ধন্যি মেয়ে সিনেমায় উত্তমকুমার ওরফে কালী দত্তের সেই ডায়লগ এখনও ফুটবলপ্রিয় বাঙালির কানে বাজে। দাদার কথা শুনে বগলার স্পটকিক সেদিন বাইরে যায়। তা সত্ত্বেও হাড়ভাঙা শিল্ডের নায়ক তিনিই।
‘বগা আউটে কিক কর, আউটে কিক কর। আমার দল কখনো পেনাল্টিতে গোল দেয় না’— ধন্যি মেয়ে সিনেমায় উত্তমকুমার ওরফে কালী দত্তের সেই ডায়লগ এখনও ফুটবলপ্রিয় বাঙালির কানে বাজে। দাদার কথা শুনে বগলার স্পটকিক সেদিন বাইরে যায়। তা সত্ত্বেও হাড়ভাঙা শিল্ডের নায়ক তিনিই।
সোমবার আর্জেন্তিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কি কালী দত্তের ভূমিকায় ছিলেন লায়োনেল স্কালোনি? থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু আর্জেন্তিনার সমর্থকরা ঠিক একই ঢংয়ে কথা বলছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলে তার প্রমাণ মিলবে। কেউ কেউ তো লিখেছেন, ‘পেনাল্টি থেকে গোল দেয় হ্যারি কেন, রোনাল্ডো। মেসি ফিল্ড গোলেই অভ্যস্ত।’
বিশ্বকাপের আসরে মেসির পেনাল্টি মিস এই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্পটকিক থেকে জাল কাঁপাতে ব্যর্থ তিনি। চার বছর পর কাতারেও একই ছবি। তা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতা তিনি (১৮)। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া লক্ষ্যভেদের সুবাদে গড়লেন আরও এক অনন্য রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছ’টি ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতলেন তিনি। শুধু তাই নয়, কাপযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে (২৮) খেলার রেকর্ডও এলএমটেনের ঝুলিতে। মেসির এই দুরন্ত পারফরম্যান্সের সৌজন্যে গ্রুপ পর্বে টানা দু’ম্যাচ জিতল আর্জেন্তিনা। সেই সঙ্গে নক-আউটের টিকিট নিশ্চিত করল লায়োনেল স্কালোনি ব্রিগেড। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডনের মুখোমুখি হবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে শুরুতে পেনাল্টি মিসের পর মৃদু হাসতে দেখা যায় মেসিকে। তবে হতাশার সাগরে নামেননি তিনি। ম্যাচ শেষে অবশ্য তাঁর মন্তব্য, ‘এতটা খারাপ শট নেব ভাবিনি। তবে ওই মিস আমার জোড়া গোলের অনুপ্রেরণা। শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’ কোচ লায়োনেল স্কালোনি অবশ্য মেসিকে নিয়ে নতুন করে উচ্ছ্বাস দেখাতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রতিদিন একই কথা বলতে বলতে হাঁপিয়ে উঠছি।’
বুধবারই ৩৯ বছরে পা দিচ্ছেন মেসি। জন্মদিনের কয়েক ঘণ্টা আগে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের পরেও মাটিতেই পা রাখছেন তিনি। তাঁর সংযোজন, ‘বয়সের কথা ভেবে সময় নষ্ট করি না। ফিট থাকাই একমাত্র লক্ষ্য।’ এরপরই বিশ্বকাপে করা ১৮টি গোলের মধ্যে কোনটি সেরা প্রসঙ্গে তাঁর সাফ জবাব, ‘সত্যি বলতে, এখন আর সব মনে নেই। প্রতিটা মুহূর্ত আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করতে চাই।’