নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন যেকোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাচীরের মতোই কাজ করে। তাদের এই গুরুত্ব সম্পর্কে সকলেই অবগত। তাই পরিবেশবিদরা ম্যানগ্রোভ বনায়নের উপর জোর দেন। কিন্তু এই গাছগুলির গুরুত্ব কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, কারণ এই গাছগুলির রয়েছে নানাবিধ ঔষধি গুণও। গরান, বাইন, সুন্দরী, গোলপাতা ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির পাতা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদ হোসেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক বিনোদ সর্দার এবং ওড়িশার এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক সঞ্জিত কুমার সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গাছের ঔষধি গুণ নিয়ে যৌথভাবে একটি সমীক্ষা চালান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার এবং গাছের ইতিহাস অনুসন্ধান করে তাঁরা দশটি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির ঔষধি গুণাবলি চিহ্নিত করেন। সম্প্রতি, তাঁদের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের মতে, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে গ্রামবাসীদের এই গাছের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। যখন তাঁরা বুঝতে পারবে যে, এই গাছগুলি কতটা উপকারী, তখন আর কেউ এই বন কাটতে সাহস করবে না। উল্টে বেশি করে চারা রোপণ করবেন। গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, হারগুজা গাছের পাতা বেটে ত্বকের সংক্রমণ এবং পোকামাকড়ের দংশনে ব্যবহার করা হয়। কালো বাইনের কাঁচা ফল ফোঁড়ার চিকিৎসায় কার্যকরী। সুন্দরী গাছের বীজ গুঁড়ো করে ডায়রিয়া এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা যেতে পারে। হেতাল গাছের ফলের রস প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গর্জন গাছের ছাল পেটের সমস্যায় উপকারী। এছাড়া ধন্দোল, গড়িয়া প্রভৃতি গাছের নানা অংশের বিবিধ উপকারিতার কথাও বলা হয়েছে গবেষণাপত্রে।



