শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: মেচেদা ইসকনের রথযাত্রার সঙ্গে মিশে রয়েছে মায়াপুর ও পুরী। এটাই মেচেদা ইসকনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। প্রায় ৮০বছরের পুরনো মেচেদা ইসকনের একটি রথ টানা হয়। তাতে চড়ানো হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ। সেই রথ দীর্ঘ কয়েক বছর নদীয়ার মায়াপুরে ইসকন মন্দিরে টানা হত। সেই রথে চড়তেন জগন্নাথ প্রভু। মায়াপুর থেকে জগন্নাথের রথ মেচেদা ইসকন, বলদেবের রথ দুর্গাপুর ইসকন এবং সুভদ্রার রথকে জামসেদপুর ইসকন মন্দিরে দেওয়া হয়েছে। তারপর মায়াপুরে নতুন রথ গড়া হয়। মেচেদায় ইসকনের জগন্নাথ প্রভুর বিগ্রহ তৈরি হয়েছে পুরীতে। অনেকেই বলেন, এখানকার বিগ্রহ দেখার পর বারবার দেখতে ইচ্ছা করে। ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ আনন্দময় গোবিন্দদাস ব্রহ্মচারী বলেন, আমাদের এখানকার জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ দেখে মনের ভিতর প্রেম, ভক্তি, ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে। এটাই এখানকার বিশেষত্ব।
মেচেদা ইসকন মন্দিরের বয়স প্রায় ২৫বছর। তবে, ২০১১সাল থেকে এখানে রথযাত্রা শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যক্ষভাবে এই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। তিনি উৎসব কমিটির চেয়ারম্যানও। প্রতি বছর রথযাত্রায় শামিল হন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও তিনি বিকাল ৪টেয় মেচেদা ইস্কনের রথের শুভ সূচনা করবেন বলে কথা দিয়েছেন। এখানকার রথযাত্রা উপলক্ষ্যে ১০-১২দিন ধরে মেলা বসে। রথের আগেরদিন নেত্র উৎসব থেকেই রথযাত্রার অনুষ্ঠান পুরোদমে শুরু হয়ে যায়। উল্টোরথের পরও কয়েকদিন মেলা চলে।
মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে রথ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘোরানোর পর ফের মন্দিরেই ফিরে আসে। আলাদা করে কোথাও মাসির বাড়ি করা যায়নি। তবে, এই রথে প্রায় লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। রথ থেকে উল্টোরথ পর্যন্ত প্রত্যেকদিন জগন্নাথ লীলাকথা আলোচনা হয়। সেইসঙ্গে নৃত্য নাটিকা ও প্রসাদ বিতরণ চলে। প্রচুর সংখ্যক ভক্ত প্রসাদ সংগ্রহ করেন। রাজ্য সরকার এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় চারটি রথ উৎসব কমিটিকে সরকারি অনুদান বাবদ পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারমধ্যে মেচেদা ইস্কনের রথও রয়েছে।
প্রায় ১০-১২দিন ধরে চলা মেলায় প্রচুর মানুষজন জড়ো হন। তমলুক, কোলাঘাট, পাঁশকুড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ভক্ত সমাগম হয়। এছাড়া, জেলার বাইরে থেকে ইসকন ভক্তরা আসেন। উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান শুভেন্দুবাবু এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রথযাত্রার শুভ সূচনা করবেন। তাই এবার বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
আজ, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় পাণ্ডববিজয় অনুষ্ঠান হবে। তারপর বিকাল ৪টেয় রথযাত্রার উদ্বোধন। লক্ষ ভক্ত ‘জয় জগন্নাথ’ আওয়াজ তুলে রথের রশিতে টান দেবেন। প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে একই রথে চড়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন। মেচেদা বাজার থেকে জাতীয় সড়ক বরাবর সুসজ্জিত রথযাত্রা হলদিচক পর্যন্ত যায়। তারপর জাতীয় সড়কের বিপরীত লেন দিয়ে রথে চড়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা ফের মন্দিরে ফিরে আসেন। রথযাত্রা দেখার জন্য আশপাশ এলাকা থেকে প্রচুর ভক্ত জাতীয় সড়কের দু’ধারে জড়ো হন। মেচেদা ইসকনের এই রথযাত্রা গত কয়েক বছর জেলার গুরুত্বপূর্ণ রথযাত্রা হিসেবে ওঠে এসেছে।
মেচেদা ইসকনের অধ্যক্ষ বলেন, ২০১১সাল থেকে আমাদের রথযাত্রা শুরু হয়েছে। শুভেন্দুবাবু শুরু থেকে উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান। তাঁর হাত ধরে এবারও রথযাত্রার সূচনা হবে। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে এখানে মেলা বসে। ভক্তিমূলক আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ সহ কয়েকটা দিন বেশ জমজমাটভাবেই কাটে।