


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খানকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আফগান যুবক হারুনের প্রথমপক্ষের স্ত্রী এখন তদন্তকারীদের নজরে। ঘটনার পর থেকেই বারবার ডেরা বদলানোয় তাঁর গতিবিধিকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। খুনের ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে হারুনের ফোনে প্রায়ই কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে তদন্তকারীদের ধারণা, আফগান যুবক কোথায় লুকিয়ে রয়েছে, তা সম্ভবত জানেন ওই মহিলা। পাশাপাশি পিলখানায় হারুনের অন্যান্য বান্ধবীদের উপরেও নজর রাখছেন পুলিশ অফিসাররা। হারুন ও রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত যাতে কোনোভাবে দেশ ছাড়তে না পারে, সেকারণে লুকআউট নোটিস জারি হয়েছে। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে, আততায়ীরা ভিন রাজ্যের ট্রেন ধরেছে কি না।
বুধবার ভোরে খুন হন প্রোমোটার শফিক খান। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই ছবি। ঘটনার পর থেকেই দুই আততায়ী হারুন ও রোহিত পলাতক। হারুনের বাহিনী পিলখানা, ওড়িয়াপাড়া সহ উত্তর হাওড়ার একটি বড়ো অংশে কর্তৃত্ব চালায়। অবৈধ বিল্ডিং নির্মাণের পিছনে এই গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, হারুনকে তোলা দিলে অনুমোদিত নকশা ছাড়াই বাড়ি তৈরি সম্ভব। তদন্তকারীরা জেনেছেন, হারুন তোলাবাজি করে মাসে কোটি টাকার কাছাকাছি রোজগার করে। মাস মাইনে দিয়ে তার টিমকে পুষছে সে। এলাকায় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ছোটোখাটো অনুষ্ঠান বা দানধ্যান করায় তরুণ প্রজন্মের কাছে হারুনের জনপ্রিয়তা মারাত্মক।
হাওড়ার বিভিন্ন পানশালায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল হারুনের। জানা গিয়েছে, সেখানে তার সঙ্গে মিটিং করত ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীরা। হত আগ্নেয়াস্ত্রের ডিল। পানশালায় যাতায়াতের সুবাদে একাধিক নারী সঙ্গ তৈরি হয় তার। পিলখানাতেই তার তিনজন বান্ধবী রয়েছে। প্রথমপক্ষের স্ত্রী পিলখানায় না থাকলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে হারুনের। তাই খুনের পর সে তাঁর কাছে ফোন করে আশ্রয় চায়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিচালিঘাট এলাকায় শুধু নিজের কাছে আশ্রয় নয়, হারুনকে পালাতেও সাহায্য করেছেন প্রথমপক্ষের স্ত্রী। হারুন মেটিয়াবুরুজ ছাড়ার পরেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। তাঁর মোবাইলের কললিস্ট ঘেঁটে এই তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এখন হারুনের প্রথমপক্ষের স্ত্রী ঘন ঘন ডেরা বদলাচ্ছেন। কোথাও চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি থাকছেন না। এভাবে ডেরা বদলানোয় অফিসারদের সন্দেহ আরও বেড়েছে। এই মূহূর্তে হারুনের প্রথমপক্ষের স্ত্রীর অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে ধন্দে তদন্তকারীরা। তাঁর গতিবিধি জানতে মরিয়া তাঁরা। যাতে সেই সূত্র ধরেই হারুনের অবস্থান জানা যায়।