


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিঠ থেকে ব্যাগ ঝুলে প্রায় নেমে এসেছে পায়ের কাছে। ব্যাগের ওজনে ছোট্ট কাঁধে লাল দাগ! ব্যাগ আর ব্যাগের মলিকের ওই হাল দেখে স্কুল ছুটির পর বাবা-মায়েরা সেই বোঝা কাঁধে তুলে নন। এমন দৃশ্য রাস্তাঘাটে কারও কাছেই খুব একটা অচেনা নয়। সেই বই ভরতি ‘ওজন বইবার’ দিন বোধহয় এবার শেষ হল! কারণ, সরকার সেইসব শিশুদের কথা ভেবেছে। পড়ুয়াদের দেহের ওজন অনুযায়ী বইয়ের ব্যাগের ওজনও স্থির করে দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। শুক্রবার স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালে কেন্দ্রের স্কুল ব্যাগ পলিসি অনুযায়ী এই নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের নয়া সরকার। ২০২০ সালে তত্কালীন রাজ্য সরকারও কেন্দ্রের ওই নীতির পর আলাদা করে একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু কালের নিয়মে তা চাপা পড়ে যায়। শুক্রবার শিক্ষাদপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যাগের ওজন পড়ুয়াদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশ অতিক্রম করবে না। প্রাক্প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য কোনো ব্যাগ না-রাখারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাগ বেশি ওজনদার হওয়ার ফলে শিশুদের কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, সেই বিষয়েও অবগত করা হয়েছে নির্দেশিকায়। সেখানে বলা হয়েছে, ওজনদার ব্যাগের বোঝায় পড়ুয়াদের দেহ সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। ফলে পিঠ, ঘাড় ও কাঁধের পেশিতেও চাপ পড়ে। পড়ুয়াদের ব্যাগ তুলতে ও রাখতেও সমস্যায় পড়তে হয়। বেশি ওজনের ব্যাগ শিশুদের মধ্যে দেহ গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কাঁধে-পিঠে ব্যথাও হয়। এমনটাই বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। প্রাক্প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দেহের ওজন অনুযায়ী ব্যাগের বোঝা কতটা হবে, সেটিও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। প্রথম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য (গড় দেহের ওজন ১০-১৬ কিলোগ্রাম) ব্যাগের ওজন ২২০০ গ্রাম ছাড়াবে না। দ্বাদশের পড়ুয়াদের (গড় দেহের ওজন ৩৫ থেকে ৫০ কেজি) ব্যাগের ওজন ছাড়াবে না সাড়ে তিন থেকে পাঁচ কেজি—এটাই সর্বোচ্চ। প্রতিদিন স্কুলগুলোতে ব্যাগের ওজন পরিমাপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে প্রতিটি সরকারি স্কুলে ওজন মাপার যন্ত্রও রাখতে বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি দপ্তরের মতো বৃহস্পতিবারই বিকাশ ভবনের তরফে কর্মী-আধিকারিকদের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানী হতে বলা হয়েছে। শিক্ষাদপ্তরের কোন আধিকারিক কবে বাড়ি থেকে কাজ করবেন, ঠিক করে দেওয়া হয়েছে সেই দিনটিও। এর পাশাপাশি ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করা, অপ্রয়োজনীয় ফোটোকপি-প্রিন্ট, অপ্রয়োজনীয় যাতায়তসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয়সংকোচের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।