


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: খসড়া থেকে আরও প্রায় ১৬ হাজার নাম বাদ দিয়ে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হল হুগলিতে। তবে তালিকা প্রকাশ হতেই একগুচ্ছ অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। চণ্ডীতলা থেকে সিঙ্গুর– অনেক ভোটারের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তরুণ ভোটারদের নামও বিস্ময়করভাবে বাদ গিয়েছে। বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৪ জনকে। এদিকে, খসড়া তালিকাতেই জেলায় নাম বাদ যাওয়ার তালিকায় উপরের দিকে ছিল শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র। চূড়ান্ত তালিকাতেও সেখান থেকে প্রায় পৌনে তিন হাজার নাম বাদ গিয়েছে। প্রায় একই সংখ্যক নাম বাদ গিয়েছে বলাগড় থেকে। সব মিলিয়ে জেলার নাগরিক মহল্লায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার আগে হুগলি জেলায় ৪৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৯৯ জন ভোটার ছিলেন। এসআইআরের খসড়া তালিকায় ৪৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ২২৫ জনের নাম প্রকাশিত হয়েছিল। শনিবারের প্রাথমিক চূড়ান্ত তালিকায় ৪৪ লক্ষ ৪০ হাজার ২৯৩ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে খসড়া তালিকায় ডানকুনি পুরসভার কাউন্সিলার সূর্য দে-কে মৃত বলে দেখানো হয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় সেই ভুল সংশোধন করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলি জেলাতে মোট ৫২৩৭টি ভোটকেন্দ্র ছিল। সেখানে একটি ভোটকেন্দ্র বেড়েছে। হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, চণ্ডীতলার গঙ্গাধরপুরের বছর ত্রিশের দীপক মালিকের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর বাবা জয়দেব মালিকের নামও বাদ। জয়দেববাবুর নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় ছিল না। তাই দু’জনকেই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। এমন হাজার হাজার উদাহারণ সিঙ্গুর থেকে ধনেখালি, চুঁচুড়া থেকে চণ্ডীতলায় ছড়িয়ে আছে। আশা করি এ থেকেই নাগরিক মহল বুঝতে পারবেন, এসআইআরের উদ্দেশ্য ঠিক কী। এনিয়ে আমাদের রাজনৈতিক লড়াই চলছে এবং তা জারিও থাকবে। আর বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতেই পারে। তার জন্যে আইনি সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে, তৃণমূলের জারিজুরি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস হুগলির ভোটারদের তা বুঝতে সমস্যা হবে না।
এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক আকচাআকচি ছিলই। এদিনও তা দেখা গিয়েছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, অসংখ্য ভুল সহ এই প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ, খসড়া তালিকায় থাকা নাম এই তালিকায় বাদ গিয়েছে। আবার, ৯১ বছরের প্রবীণার নামও বাদ পড়েছে। শুনানিতে ডাকা হয়নি, অথচ এই চূড়ান্ত তালিকায় নাম ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনাও আছে। সব মিলিয়ে এই তালিকা নিয়ে নাগরিক মহল্লায়
ক্ষোভ স্পষ্ট।