নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কলকাতা পুরসভার সঙ্গেই নির্বাচন করা হোক চন্দননগরে। কলকাতা পুরসভার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই আওয়াজ উঠতে শুরু করেছে হুগলির এই প্রাচীন জনপদে। এলাকার বাসিন্দারা তো বটেই, রাজনৈতিক মহল থেকেও এই দাবি জোরালো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, কলকাতার মতো চন্দননগরও ‘কর্পোরেশন’। সেখানে মেয়র রাম চক্রবর্তী তাঁর দলের সব কাউন্সিলারকে নিয়েই পদত্যাগ করেছেন। অভিযোগ, ইতিমধ্যেই চন্দননগরে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক থেকে রাজনৈতিক মহল কার্যত একসুরেই নির্বাচন দাবি করছে। নির্বাচন দ্রুত হোক, এই দাবি যেমন রাজ্যের অন্যতম বিরোধী দল বামেরা করছে, তেমনই করছে শাসকদল বিজেপিও। ইতিমধ্যেই সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা সিপিএম নেতা অশোক গঙ্গোপাধ্যায় এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত বোর্ড না থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতা চন্দননগরবাসীর আছে। অতীতেও একবার তৃণমূল সরকার অসময়ে বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসিয়েছিল। এবার তারা নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও পালিয়ে গিয়েছে। তাই আমরা চাই, দ্রুত নির্বাচন হোক। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, প্রশাসক কখনই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিকল্প হতে পারে না। তিনি বলেন, চন্দননগর পুরবোর্ড থেকে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা পালিয়ে গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড চেয়েছেন। তাঁর ওই ঘোষণায় আমরা আশাবাদী। আমরা চন্দননগরে দ্রুত নির্বাচন চেয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে বলব। চন্দননগরের বাসিন্দা জ্যোতির্ময় গুহ বলেন, ‘৩৩টি ওয়ার্ড এবং একাধিক বরো আছে চন্দননগরে। সেখানে নির্বাচিত বোর্ডকে পরিষেবা দিতে হিমশিম খেতে হত। বলা বাহুল্য যে, সেখানে প্রশাসক দিয়ে সঠিক পরিষেবা দেওয়া কঠিন। তাছাড়া অতীতে প্রশাসক নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা মধুর নয়। নাগরিক স্বার্থেই দ্রুত নির্বাচন হওয়া দরকার।’ রাজ্যে পালাবদলের পর চন্দননগর পুরসভার মেয়র সহ সমস্ত পদাধিকারী ও কাউন্সিলাররা একযোগে পদত্যাগ করেন। দ্রুত প্রশাসক বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এলাকার বাসিন্দাদের খুব একটা স্বস্তি দেয়নি। সম্প্রতি কলকাতা পুর নির্বাচনের নির্ঘণ্ট কার্যত ঘোষণা করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই চন্দননগরের প্রায় সমস্ত মহল থেকে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়েছে।



