


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি আজ বুধবার ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভূমিতে ঢুকবে। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের খুব কাছ থেকে এটি বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে যাওয়ার জন্য সোমবার রাত থেকে দক্ষিণবঙ্গের উপর নিম্নচাপের কিছুটা প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গাতেই ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। আজ বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া জেলার কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতে সম্ভাবনা আছে। সাধারণভাবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টিপাত চলবে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। উত্তরবঙ্গেও সাধারণভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত ও হিমালয় লাগোয়া অংশে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার বেশি রাতের দিকে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হয়। তার সঙ্গে ছিল ব্যাপক বজ্রপাত। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটির জন্য এটা হয়েছে। সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ঢোকে। পাশাপাশি সোমবার সকালের দিকে চড়া রোদের গরম ছিল। এরকম পরিস্থিতিতে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় রাতের দিক থেকে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হতে থাকে। এরকম মেঘ হলে বেশি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বজ্রপাতও হয়। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় জেলাতেই কম-বেশি বৃষ্টি হয় রাত থেকে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে (১২০ মিমি)। হাওড়ার আমতায় ১০০ মিমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে ৮০ মিমি, দুর্গাপুর-ডায়মন্ডহারবার-মুর্শিদাবাদের আমতলা-হাওড়ার উলুবেড়িয়াতে ৭০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের আরও অনেক জায়গায় ৪০ থেকে ৬০ মিমি বৃষ্টি হয়। কলকাতা (আলিপুরে) ৩৯.১ মিমি, দমদমে ২৮.৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা বাড়ার পর বৃষ্টির মাত্রা কমেছে। তবে কলকাতাসহ অন্যান্য জেলায় মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয়। এরকম পরিস্থিতি আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত থাকবে বলে আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন। তারপর বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা নিম্নচাপটি আরও কিছুটা শক্তি বৃদ্ধি করবে। তবে এর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে নিম্নচাপটি ওড়িশায় ঢুকবে। রাজস্থান থেকে বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা এখন ওড়িশার উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে আগামী কয়েকদিন ওড়িশায় বেশি বৃষ্টি হবে।