নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে এবার ট্যুরিজম সার্কিট গড়ে উঠবে মালদহে! গঙ্গা আরতি, লঞ্চে গঙ্গা ভ্রমণের সঙ্গে নদীর তীরে বাচ্চাদের জন্য পার্ক, বয়স্কদের হাঁটার জন্য তৈরি হতে পারে বিনোদন পার্ক। গঙ্গা দূষণ রোধে বৃহস্পতিবার মালদহ জেলা গঙ্গা কমিটির বৈঠক থেকে এমনই আভাস দিল জেলা প্রশাসন। দূষণ রোধের পাশাপাশি নেওয়া হচ্ছে গঙ্গার ঘাট সৌন্দর্যায়ন, সবুজায়নেয় পরিকল্পনা। নেওয়া হবে আরও একগুচ্ছ পরিকল্পনা।
বৈঠক শেষে এদিন জেলাশাসক রজনবীর সিং কাপুর বলেন, গঙ্গা দূষণ রোধে আমরা বেশকিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। যেমন গঙ্গার ঘাট সৌন্দর্যায়ন, গঙ্গা দূষণ রোধ, গঙ্গা তীরের ক্ষয় রোধে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। এছাড়া গঙ্গাকে কেন্দ্র করে পর্যটনের কথাও ভাবা হয়েছে।
মালদহ জেলার রতুয়া-১ ব্লকের উপর দিয়ে গঙ্গা বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। এরপর মানিকচক ব্লক হয়ে কালিয়াচক-২ ব্লকের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালিয়াচক-৩ ব্লক হয়ে গঙ্গা মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রবেশ করেছে। মালদহ জেলার চারটি ব্লকের প্রায় ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপর দিয়ে গঙ্গা প্রবাহিত হয়েছে। যেখানে রয়েছে অসংখ্য স্নান ও বেশ কয়েকটি নৌকা পারাপার ঘাট।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচক, বৈষ্ণবনগর সহ বেশ কয়েকটি ব্লকের গঙ্গাঘাটে সবুজায়ন করা হবে। এজন্য কোন ধরনের গাছ গঙ্গা পাড়কে সুরক্ষিত করতে পারে, তার জন্য বনদপ্তরের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। বনদপ্তরের মালদহ ডিভিশনের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার এদিন গঙ্গাপারে অর্জুন গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। কারণ বনদপ্তরের যুক্তি অর্জুন গাছের ওষুধি গুণ যেমন রয়েছে, তেমনি গঙ্গা পাড়ের ক্ষয় রোধের ক্ষমতাও বেশি। একই সঙ্গে এদিন রামকৃষ্ণ মিশন সহ বেশকিছু ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক সংস্থার মাধ্যমে সন্ধ্যাবেলায় গঙ্গার ঘাটে আরতি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।