Bartaman Logo
২০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এখনও ঝুলে চুঁচুড়ার কোদালিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ, বানচাল বৈঠক বিজেপির সক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

মঙ্গলবারের মতো অবরোধ না হলেও ছিল ‘পাহারা’। নাগরিক পাহারার পাশাপাশি পুলিশের তৎপরতাও ছিল নজরকাড়া

এখনও ঝুলে চুঁচুড়ার কোদালিয়া  ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ, বানচাল বৈঠক  বিজেপির সক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
  • ২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মঙ্গলবারের মতো অবরোধ না হলেও ছিল ‘পাহারা’। নাগরিক পাহারার পাশাপাশি পুলিশের তৎপরতাও ছিল নজরকাড়া। তবে শেষপর্যন্ত ফলাফল একই দাঁড়াল। মঙ্গলবার প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি ভেস্তে যাওয়ার পর বুধবার উপপ্রধানের বিরুদ্ধেও আনা অনাস্থা নিয়ে আলোচনা ভেস্তে গেল। কারণ, অনাস্থা যাঁরা এনেছিলেন, তাঁরা কেউই হাজির হননি। যদিও চুঁচুড়ার কোদালিয়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ওই অনাস্থা বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা ছিল চরমে। অনাস্থা যাঁরা এনেছিলেন, তাঁদের একাংশের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে বিজেপি কর্মীরা এসে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিয়ে গিয়েছেন। তাতেই তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত নিয়ে বিজেপির তৎপরতা ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, অনাস্থা বৈঠক খারিজ বা বাতিল করে দেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্ন থাকছে। কারণ, বাতিল করতে হলেও কোরাম দরকার। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির দিন কোনো পক্ষের কেউই উপস্থিত ছিলেন না। সেক্ষেত্রে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার। বস্তুত, এই অবস্থায় ওই পঞ্চায়েতে প্রধান বা উপপ্রধানের ক্ষমতায় থেকে যাওয়া কতটা বৈধ, সে প্রশ্নও থাকছে। যদিও চুঁচুড়া-মগরা ব্লকের বিডিও রাজীব পোদ্দার বলেন, উপপ্রধান নিয়ে আনাস্থার প্রেক্ষিতে আমরা বৈঠক ডেকেছিলাম। সেখানে সরকারি প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কেউ আসেননি। তাই বৈঠক হয়নি। পরবর্তী পর্ব আমরা আইন অনুসারে ঠিক করব। বিজেপির চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, পঞ্চায়েত নিয়ে আমাদের দলের নীতি কী, তা সকলেই জানেন। আশা করি, সেই নীতি কেউ লঙ্ঘন করবেন না। নির্বাচিত বোর্ড মানুষকে পরিষেবা দিক, এটাই কাম্য।

Advertisement

এদিকে, অনাস্থার পক্ষে থাকা পঞ্চায়েত সদস্যা মিতা মজুমদার বলেন, বিজেপির লোকজন এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছে, তাই যাইনি। পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃণমূল নেত্রী বেলা মাঝি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের জেলা সভাপতি অসিত মজুমদার বলেন, দলের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে অনাস্থা ডাকা হয়নি। দলীয়স্তরে আলোচনা করা হবে। বিজেপির ভূমিকা প্রসঙ্গে দলের হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরো ঘটনায় বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই। বিজেপির কোনো কর্মী নাগরিক হিসাবে উপস্থিত থাকতে পারেন। সেটা অন্য বিষয়। নাগরিকরাই তৃণমূলের পঞ্চায়েত বোর্ডের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে নানা পদক্ষেপ করছেন। ২৫ সদস্যের কোদালিয়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ১৯ জন সদস্য আছেন। বিজেপির চারজন সদস্যের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। দু’জন সদস্য আছেন সিপিএমের। এই অবস্থায় তৃণমূলের ১৩ জন সদস্য সম্প্রতি প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। অভিযোগ, দু’দিনই ঘেরাওয়ের নামে বিজেপি সদস্যদের কর্মকাণ্ড অনাস্থা বৈঠক হতে দেয়নি। তাতেই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ