Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘প্রথমেই গ্যাস বন্ধ করলে এভাবে আগুন লাগত না’, এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন মা, হলদিয়ার যুবকের ক্ষোভ

হলদিয়ায় গ্যাস লিকের কারণে আহত মাকে এসএসকেএমে ভর্তি করা হয়েছে। গ্যাস বন্ধ না করার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মোহন। বিস্তারিত পড়ুন।

‘প্রথমেই গ্যাস বন্ধ করলে এভাবে আগুন লাগত না’, এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন মা, হলদিয়ার যুবকের ক্ষোভ
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগুনে ঝলসে গিয়েছে পিঠ। আহত মাকে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে রেখে সোমবার রাতের ভয়াবহ সময়ের কথা বলছিলেন হলদিয়ার চিরঞ্জীবপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহন দোলুই। তাঁর প্রশ্ন, রাত সাড়ে ১০টা থেকে গোটা গ্রামে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেইসময় কারখানায়, পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মোহনের আপশোস, প্রথমেই গ্যাস বন্ধ করা হলে এভাবে আগুন লাগত না। 

Advertisement

বিভিন্ন জেটি থেকে এরকম গ্যাসের পাইপ কারখানা পর্যন্ত প্রসারিত। ঠিক কী হয়েছিল সেই রাতে? মঙ্গলবার এসএসকেএমে দাঁড়িয়ে মোহন বলছিলেন, ‘রাত ১০টা সাড়ে ১০টা থেকেই আমরা গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছিলাম। প্রথমে পেট্রকেমিক্যালে খবর দিলাম। ওঁরা বললেন, এলপিজি লিক হয়েছে। হলদিয়া থানায় ফোন করতে বলল, এটা ভবানীপুর থানা এলাকায়।’ শেষে সাড়ে ১১টা নাগাদ পেট্রোকেমিক্যালের আধিকারিকরা এসেছিলেন ওই গ্রামে। ‘প্রথমে বললেন, এলপিজি। পরে বললেন, ওটা ন্যাপথা। খোঁজ করে জানতে পারলেন ৩ নং জেটি থেকে ওই পাইপ এসেছে’, বলছিলেন মোহন।
চিরঞ্জীবপুর গ্রামের পাশেই শিল্পপ্রবেশ। মোহনের কথায়, ‘হাওয়ার ঠেলায় গ্যাস শিল্পপ্রবেশের দিকে যাচ্ছিল। আচমকাই ভোর ৪টে নাগাদ বিরাট জোরে শব্দ হয়। আমরা দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই আগুন নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে। পরপর বাড়িতে আগুন লাগতে থাকে। আমার মা সেইসময় বাড়ির সামনে ছিলেন। আগুনের ফুলকি এসে গায়ে লাগে তাঁর।’ 
তাঁর প্রশ্ন, ‘আমরা যখন বললাম, সেইসময় গ্যাস বন্ধ করল না কেন?’ হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালে কর্মরত মোহনের মা মামনি দোলুই আপাতত ট্রমা কেয়ারে চিকিত্সাধীন। দিদি মিতা ভুঁইয়াকে আহত অবস্থায় এসএসকেএমে নিয়ে এসেছিলেন অরবিন্দ প্রধান। বলছিলেন, ‘আমি ভোর ৫টা নাগাদ ফোন পাই। হলদিয়া থেকে তমলুক হয়ে তারপর এসএসকেএমে গ্রিন করিডর করে আনা হল। হাত-পা-মুখ ঝলসে গিয়েছে!’ এদিকে, এসএসকেএমে ভরতি রয়েছেন দম্পতি সঞ্জীব হাজরা ও বুল্টি হাজরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, ‘ওঁরা দুজনেই বাড়িতে ছিলেন। বাড়িতেও তো বৃদ্ধা মা আর শিশু ছাড়া কেউই নেই।’ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালেও হলদিয়ার ঘটনায় আহত কয়েকজনকে ভরতি করা হয়েছে বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ