


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীর্ষ লিগ নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। প্রাথমিক আলোচনার পর দু’টি ভেন্যুতে লিগ আয়োজনের প্রস্তাব দেয় তারা। সেক্ষেত্রে কলকাতা ও গোয়াই ছিল পছন্দ। মূলত খরচ ও সময় সংকুলানের উপর জোর দেওয়া হয়। এদিন ফেডারেশনের সঙ্গে ক্লাব জোট প্রতিনিধিদের বৈঠকে বিকল্প প্রস্তাব উঠে এল। পুরোনো ফর্মুলায় হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ আয়োজনের ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে গ্রুপ পর্যায়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা দলই খেতাব জিতবে। এএফসি’র স্লট পেতে কমপক্ষে ২৪টি ম্যাচের প্রয়োজন। এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে সবদিক বজায় রাখা সম্ভব। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। সূত্রের খবর, আগামী ২৬ ডিসেম্বর ফের একদফা বৈঠক। তারপর ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর লিগের তারিখ ঘোষণা করতে চায় ফেডারেশন নিযুক্ত কমিটি। শীর্ষ লিগ আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতা তুঙ্গে। এখন বিপদ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। প্রবল টাইম প্রেসারে কালঘাম ছোটার জোগাড়। শুধু রোডম্যাপ করলেই তো হবে না। ফান্ডিং ও সম্প্রচারও জরুরি। এমন অবস্থায় স্পষ্টভাবে রোডম্যাপ বুঝে নিতে চাইছে ক্লাবজোট। শোনা যাচ্ছে, ফরম্যাট চূড়ান্ত হলেই সম্প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
এদিন নয়াদিল্লিতে বৈঠকে মোহন বাগান, এফসি গোয়া, দিল্লি এফসি, নর্থইস্ট কর্তারা ছিলেন। তাঁরাই জোটের প্রতিনিধিত্ব করেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট করতে চান তাঁরা। আসলে নানা কারণে ফেডারেশনের উপর বিরক্ত ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি। উদাসীন মনোভাব ও সমস্যা সমধানে কল্যাণ চৌবেদের অহেতুক গড়িমসি সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বর এফএসডিএলের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় ফুটবলে কোনও কমার্শিয়াল পার্টনার নেই। অনেকেরই ধারণা, ফেডারেশন আগে উদ্যোগ নিলে সমস্যা এড়ানো যেত। বিশেষ করে সভাপতি কল্যাণ চৌবে দায়িত্ব পালনে ডাহা ব্যর্থ। বারবার তাই দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা চাইছে ক্লাব জোট। এক টেবিলে আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে চান তাঁরা। কিন্তু সবার আগে মাঠে বল গড়ানো জরুরি। এদিন বৈঠকে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্য সমস্যাও রয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষ লিগে এখনই রেলিগেশন চালু করা নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত। সেক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি নেওয়া হতে পারে। তবে সব প্রস্তাব কার্যকর করতে দেশের সুপ্রিম আদালতের সবুজ-সংকেত প্রয়োজন। তাই আটঘাট বেঁধে পা ফেলতে চাইছে তিন সদস্যের কমিটি।
এদিকে, মুম্বইয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া ভাঙতে চলেছে সিটি গ্রুপ। ফেডারেশনকে তা জানিয়ে দিল বাণিজ্য নগরের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি। ফলে আর্থিক সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষ লিগ চালু হলে মুম্বই কতটা দল গড়তে পারবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।