ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: পুজোর লড়াইয়ে বাঘাযতীনের রাস্তার দুই পাশেই বিশাল আয়োজন। তরুণ সংঘ বনাম বিবেকানন্দ মিলন সংঘের স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা। গড়িয়া থেকে রাজা এস সি মল্লিক রোড ধরে এগিয়ে বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতাল পেরোলেই ডানদিকে ঢুকছে বাঘাযতীন স্টেশন রোড। সেই রাস্তা ধরলে ডানদিকে বিবেকানন্দ মিলন সংঘের মণ্ডপ। কিছুটা এগিয়ে ঠিক উল্টোদিকেই দেবালয় থানের গায়ে তরুণ সংঘের মণ্ডপসজ্জা। এলাকার নামী দুই ক্লাবেই এবার থিমপুজো।
এবার তরুণ সংঘের থিমের দায়িত্বে শিল্পী সুরজিৎ রায়চৌধুরী। নাম ‘খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার।’ হঠাৎ এমন নাম? কী থাকছে মণ্ডপসজ্জায়? সুরজিৎ জানালেন, কলকাতার বনেদিয়ানার এক মায়াবী ইতিহাসই বর্ণিত হবে এই পুজোয়। বর্তমানে শহরের ফ্ল্যাট কালচারে হারিয়ে গিয়েছে পুরানো বাড়ির ঐতিহ্য। একসময় একান্নবর্তী পরিবারের আস্তানা প্রায় সব বাড়িতেই থাকত দু’টি দরজা। একটি সামনের সিংহদুয়ার আর অন্যটি পিছনের খিড়কি। এই দুই দরজার মাঝেই ছিল বাড়ির সব পরিবার, তাদের জীবন, হাসি-কান্না, আনন্দ-দুঃখ। তরুণ সংঘের থিম মূলত পুরানো কলকাতার সেই বনেদি বাড়ির সংস্কৃতি নিয়ে। মণ্ডপের একদিকে থাকছে বাবুদের খাসমহল, ঝাড়লণ্ঠনের মৃদু আলো। আর অন্যপ্রান্তে আজকের কফি শপ, ইয়ারফোন আর স্মার্টফোনে বন্দি কলকাতা। আভিজাত্য-বনেদিয়ানা কীভাবে আধুনিকতায় বদলেছে সেটাই তুলে এ বছর তুলে ধরতে চলেছে বাঘাযতীন তরুণ সংঘ।
তরুণ সংঘ থেকে কয়েক পা হাঁটলেই বিবেকানন্দ মিলন সংঘ। এবার অকালবোধনেই আনন্দ তাদের। পুজো কমিটির সভাপতি অপু সাহা জানালেন, থিমের নাম ‘প্রণতিতেই জয়’। অর্থাৎ উৎসবের আঙ্গিক ও বহর যাই থাকুক, পুজো মূলত লুকিয়ে আছে দেবীর আরাধনায়। তাই উৎসব যত বড়োই হোক না কেন, তাতে যদি প্রকৃত শ্রদ্ধা এবং ভক্তি না থাকে তাহলে সবটাই বৃথা। তাই সেই প্রণতির মধ্যে দিয়েই জীবনের সব প্রতিকূলতাকে জয়ের বার্তা দেবে তাঁদের মণ্ডপসজ্জা। শিল্পী অগ্নিশ হালদারের মননে ফুটে উঠবে অকালবোধনের পৌরাণিক নানা কাহিনি। মাটির তৈরি ছোট ছোট সরঞ্জামের কারুকাজ ও পিংলার পটচিত্রে থাকবে পুরাণের সেই কাহিনির বর্ণনা। সব মিলিয়ে বাংলার প্রাচীন শিল্পকর্মের প্রদর্শন থাকবে মণ্ডপের ভিতরে। তবে থিমপুজো হলেও প্রতিমা হবে সাবেকি, একচালার। প্রতিবারের মতো এবারেরও পুজোর বাজেট ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা।



