Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্কুলে অঙ্কের ক্লাস নিচ্ছেন ইংরেজি মাস্টারমশাই! সেন্সাসের ডিউটিতে শিক্ষকরা, পঠনপাঠন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সেন্সাসের ফিল্ড সার্ভে। ফলে স্কুলগুলিতে এক ধাক্কায় শিক্ষকের সংখ্যা কমে গিয়েছে।

স্কুলে অঙ্কের ক্লাস নিচ্ছেন ইংরেজি মাস্টারমশাই! সেন্সাসের ডিউটিতে শিক্ষকরা, পঠনপাঠন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সেন্সাসের ফিল্ড সার্ভে। ফলে স্কুলগুলিতে এক ধাক্কায় শিক্ষকের সংখ্যা কমে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে কোথাও ইংরেজির শিক্ষককে পড়াতে হচ্ছে অঙ্ক। জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষিকাকে নিতে হচ্ছে ভূগোলের ক্লাস। কোথাও আবার শিক্ষক-শিক্ষিকারা সেন্সাসের ডিউটিতে চলে যাওয়ায় ক্লাস নেওয়াই বন্ধ। সরকারি কাজের দায়িত্ব পালনের ফাঁকে প্রশ্ন উঠছে, স্কুলের পড়াশোনার কী হবে? সেন্সাসের কাজে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ডিউটি দেওয়ায় ইতিমধ্যেই একাধিক প্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠনে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। একসঙ্গে অনেকে বাইরে থাকায় তৈরি হচ্ছে শিক্ষক-সংকট। অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা আগে থেকেই ছুটি নিয়ে রাখায় সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। কার্যত এই সাঁড়াশি চাপ সামাল দিতে নাস্তানাবুদ অবস্থা প্রধান শিক্ষকদের। বাধ্য হয়ে বিষয় বদলে ক্লাস নিতে হচ্ছে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের। ফলে স্কুল চলছে ঠিকই, কিন্তু স্বাভাবিক পঠনপাঠনের ছন্দ যে বজায় থাকছে না, মানছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

মধ্যমগ্রামের একটি স্কুলে তেমনই সমস্যার ছবি সামনে এসেছে। মধ্যমগ্রাম হাইস্কুলে মোট ৪২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছ’জন অশিক্ষক কর্মচারী আছেন। প্রধান শিক্ষক আশুতোষ ঘোষের দাবি, ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার পাশাপাশি চার জন অশিক্ষক কর্মচারীরও সেন্সাসের ডিউটিতে গিয়েছেন। সোমবার টিফিনের পরেই তাঁরা জনগণনার ডিউটিতে বেরিয়ে যান। ফলে চতুর্থ পিরিয়ডে পঠনপাঠন বন্ধ করে দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাদপ্তর থেকে এক নির্দেশিকা দিচ্ছে আর স্থানীয়ভাবে পুরসভা আলাদা নির্দেশ জারি করছে। ফলে আমরা বিপাকে পড়ে গিয়েছি। এটা দপ্তরের দেখা দরকার। উপযুক্ত নির্দেশিকা জারি করা প্রয়োজন। কীভাবে স্কুল চলবে জানি না।’ পূর্ব বারাসত আদর্শ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ৪৪ জন। সেন্সাসের কাজে ২২ জন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে এই স্কুল থেকে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমীর আচার্য বলেন, ‘এখন স্কুল চালানোটাই সমস্যার হয়ে উঠেছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক টিচার না থাকায় তাদের ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না। বাকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কারও অসুস্থতা, কারও পারিবারিক কারণে ছুটি নেওয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে স্কুল চালাতে বিস্তর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘কোনোরকমে পঠনপাঠন চালানো হচ্ছে। তবে এভাবে চলতে থাকলে এ মাসের মধ্যেই স্কুলে তালা ঝোলাতে হবে।’ তাঁর বক্তব্য, সেন্সাসের কাজ যেমন জরুরি, স্কুলের পঠনপাঠনও তেমনই জরুরি। দু’টি বিষয় কীভাবে একসঙ্গে সামলানো হবে, তার স্পষ্ট নির্দেশ প্রয়োজন। বারাসতের একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রুমা দে’র প্রশ্ন, ‘সেন্সাসের ডিউটির জন্য যদি স্কুলে শিক্ষকই না থাকেন, তা হলে পড়ুয়াদের ক্লাস নেবেন কে? বিষয় বদলে ক্লাস নেওয়া বা পিরিয়ড বন্ধ রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।’ বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এর মধ্যেই খবর, প্রথম দিনে সেন্সাসের কাজ করতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য সমস্যায় পড়তে হয়েছে সার্ভের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের।
 বারাসতে সেন্সাসের কাজ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ