নয়াদিল্লি: মাইলেজ ও ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা চরমে। ফলে ইথানল মিশ্রিত ই-২০ পেট্রল ইস্যুতে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। সরকারের ইথানল নীতির বিরোধিতায় সরব পুরানো গাড়ির মালিকরা। তারই মধ্যে এবার পুরানো দু’চাকার গাড়ির জন্য ই-১০ পেট্রল ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করলেন স্বয়ং মোদি সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ। এমনকি, পেট্রলে আরও বেশি পরিমাণে ইথানল মিশ্রণের পথে এগনোর আগে তার খরচ ও সুবিধাগুলি নিয়ে তিনি বিস্তারিত মূল্যায়ণের আহ্বানও জানিয়েছেন। ‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে নাগেশ্বরণ ও অর্থমন্ত্রকের পরামর্শদাতা আকাশ পূজারি বক্তব্য, ই-২০ নিয়ে চলতি বিতর্ক শুধুমাত্র ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ইথানল উৎপাদনের জন্য জমি ও জল ব্যবহারের প্রভাব নিয়েও আলোচনা আবশ্যক।
পুরানো দু’চাকার গাড়িগুলির জন্য ই-১০ পেট্রলের পক্ষে সওয়াল করে নাগেশ্বরণ বলেন, ভারতে আনুমানিক সাড়ে ৭ থেকে ৮ কোটি দু’চাকার যান রয়েছে, যেগুলি বিএস-৪ মডেলের। এই পুরানো কার্বুরেটর মডেলগুলি ইথানল মিশ্রণে থাকা অতিরিক্ত অক্সিজেনের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমান জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে না। ফলে ইঞ্জিন কম জ্বালানি পায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত গরম হয়। পুরানো গাড়ির রাবার সিলগুলিও ইথানল সহনশীল নয়। দীর্ঘ সময় সেগুলি ইথানলের সংস্পর্শে থাকলে নষ্ট হওয়ার সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, ইথানল নীতিতে এই সমস্যা সমাধানে কম ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পাম্পগুলি থেকে কম ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি কার্যত উধাও হয়েছে। তাই সরকারের উচিত ই-২০র পাশাপাশি ই-১০ পেট্রলের জোগান বজায় রাখা।
এছাড়াও নাগেশ্বরণ ও পূজারির বক্তব্য, ভারতে মূলত আখ, ভুট্টা ও চালের মতো দানাশস্য থেকে ইথানল তৈরি হয়। যদি ইথানল তৈরির জন্য বেশি ভুট্টা ব্যবহৃত হয়, তাহলে কৃষকরা উৎপাদন না বাড়ালে পশুখাদ্যের জন্য ভুট্টার পরিমাণ কমে যেতে পারে। ফলে পোল্ট্রি ও গবাদি পশু উৎপাদনকারীদের খরচ বেড়ে যেতে পারে। একইভাবে ইথানল উৎপাদনের জন্য বাড়তি আখ চাষের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জলের ব্যবহার নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। ভবিষ্যতে ই-২৭ বা ই-৩০ ব্যবহারের আগে সামগ্রিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনারপিক্ষেই মত দিয়েছেন দু’জনে।