Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব রেলের আসানসোল-বর্ধমান শাখার সঙ্গে বাঁকুড়াকে জুড়তে উদ্যোগী ডবল ইঞ্জিন সরকার

বাঁকুড়াকে আসানসোল-বর্ধমান শাখার সঙ্গে জুড়তে উদ্যোগী ডবল ইঞ্জিন সরকার। নতুন রেল প্রকল্প নিয়ে বৈঠক হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

পূর্ব রেলের আসানসোল-বর্ধমান শাখার সঙ্গে বাঁকুড়াকে জুড়তে উদ্যোগী ডবল ইঞ্জিন সরকার
  • ২২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়াকে পূর্ব রেলের আসানসোল-বর্ধমান শাখার সঙ্গে জুড়তে উদ্যোগী হয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। চলতি সপ্তাহে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কর্তারা বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে ভূমি, বন সহ অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকবেন। সেখানে জেলার প্রস্তাবিত একাধিক রেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, জেলার চারটি রেল প্রকল্প ও তার রুট নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। আমরা এব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া থেকে বেলিয়াতোড় পর্যন্ত রেলপথ (বাঁকুড়া-মশাগ্রাম শাখা) রয়েছে। বেলিয়াতোড় থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করলে দুর্গাপুরের সঙ্গে জঙ্গলমহল জুড়ে যাবে। ওই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ডিভিসি-র মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পরিবহণের জন্য রানিগঞ্জ থেকে গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের দুর্লভপুর পর্যন্ত একটি রেললাইন রয়েছে। বর্তমানে ওই লাইনে শুধু পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর রেলপথের মাঝে বড়জোড়ায় একটি স্টেশন হবে। বড়জোড়াকে রেলপথে দুর্লভপুরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী দিনে মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের রূপ পালটে যাবে। তবে বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর রেল প্রকল্প রূপায়নের আগে দামোদর নদের উপর সেতু নির্মাণ করতে হবে। তারজন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। রেলের তরফে ওই টাকা দ্রুত বরাদ্দ করা হবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। 
অসমাপ্ত ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেল প্রকল্প নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম রেল প্রকল্পকে বাঁকুড়া হয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রকের কাছে প্রশাসন প্রস্তাব দেবে। ওই লাইন মানবাজার হয়ে রানিবাঁধ ও রাইপুর ব্লকের একাংশের উপর দিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলায় প্রবেশ করবে।       
উল্লেখ্য, রেলের তরফে জঙ্গলমহলকে বরাবর অবহেলা করা হয়েছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। জঙ্গলমহলের পর্যটনের বিকাশে ছাতনা-মুকুটমণিপুর-ঝাড়গ্রাম রেলপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এব্যাপারে উদ্যোগী হন। ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়। কিন্তু, পরবর্তীকালে রেলের তরফে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ার কারণে প্রকল্প থমকে রয়েছে। একই রকমভাবে পূর্ব রেলের সঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব রেলকে জুড়তে বাঁকুড়া থেকে গঙ্গাজলঘাটির দুর্লভপুর পর্যন্ত মাত্র ২২ কিলোমিটার লাইন পাততে হবে। খানা-বোঁয়াইচণ্ডী রেলপ্রকল্পও থমকে রয়েছে। ওইসব রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাঁকুড়ার সঙ্গে দুই বর্ধমান জুড়ে যাবে। তারফলে বাঁকুড়া তথা জঙ্গলমহলের আর্থ-সামাজিক চেহারা পালটে যাবে। 
এতদিন রাজ্যের বিরুদ্ধে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা অভিযোগ তুলতেন। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রে একই দলের সরকার। ফলে কেউ কাউকে দোষারোপ করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়াবাসী নতুন করে রেল নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ