


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: একেবারে গোড়ার দিকে সাধারণ মানুষের আধার কার্ডে বাবার নাম থাকত। পরবর্তীকালে বাবার নাম রাখা না হলেও, ‘কেয়ার অফ’ হিসাবে বাবার নাম উল্লেখ করার ব্যবস্থা হয়। তবে সেখানে বাবা ছাড়া অন্য কারও নাম ব্যবহারের সুযোগও ছিল। কিছুদিন পর সেই ব্যবস্থাও তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে কোনো আধার কার্ডে বাবা-মা বা অন্য কারও নাম উল্লেখের সুযোগ নেই। তবে এবার আসতে চলেছে নয়া নিয়ম। বাবা ও মা—দু’জনেরই আধার কার্ডের সঙ্গে সন্তানের আধার কার্ডের সংযোগ স্থাপন করতে হবে। তার জন্য যাচাই করতে হবে মা-বাবার আধার। ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই) জানাচ্ছে, কোনো শিশুর ‘বাল আধার’-কে স্বাভাবিক আধারে পরিবর্তন করার সময় বাবা ও মায়ের আধার যাচাই করা হবে। ইউআইডিএআই তাদের সর্বশেষ বার্ষিক রিপোর্টে এমনটাই জানিয়েছে। আধারকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য করতেই এই পদক্ষেপ।
বর্তমানে নবজাতক থেকে শুরু করে পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের ‘বাল আধার’ করাতে হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শিশুর ছবি এবং বাবা বা মায়ের যে কোনো একজনের আধার। এই নিয়মে কোনো বদলের কথা রিপোর্টে বলা হয়নি। শিশুর বয়স পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলে ‘বাল আধার’কে সাধারণ আধারে রূপান্তরিত করা বাধ্যতামূলক। বর্তমান নিয়মে এই রূপান্তরের সময় বাবা বা মায়ের আধার যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র শিশুর আঙুলের ছাপ, চোখের মণির ছবি সহ প্রয়োজনীয় ছবি নেওয়া হয়। এই নিয়ম বদলের কথা জানিয়েছে ইউআইডিএআই। সেক্ষেত্রে বাবা ও মা দু’জনেরই আধার যাচাই করতে হবে সন্তানের স্বাভাবিক আধার কার্ড করানোর সময়। যে শিশুর বাবা বা মায়ের মধ্যে একজন আছেন, তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হবে। তবে মা-বাবার ডিভোর্স বা সেপারেশনের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা হবে, স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।
কেন এই নতুন নিয়ম আনার তোড়জোড়? সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাখ্যা, বাবা ও মায়ের আধারের সঙ্গে সন্তানের আধারের যোগসূত্র তৈরি করা হবে। আগামী দিনে আধারকেই যাবতীয় পরিষেবার পাওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র প্রামাণ্য নথি হিসাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আধার সংক্রান্ত আরও এক গুচ্ছ ভাবনার কথা জানিয়েছে ইউআইডিএআই। প্রথমত, গ্রাহক যখন আধার কার্ড করাতে যান বা তাতে কিছু বদল চান, তখন তাঁকে হরেক নথি জমা দিতে হয়। সেই নথি আদৌ সঠিক কি না, তা যাচাই করতে হয় আধার কর্তৃপক্ষকে। সেসব নথি যাচাইয়ে গতি আনতে প্রাথমিক স্তরে আয়কর দপ্তর এবং পাসপোর্ট বিভাগের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। দপ্তরের নথি থেকেই তা যাচাই করে নেবে আধার কর্তৃপক্ষ। এই পরিকল্পনার ‘পাইলট প্রজেক্ট’ চালু হবে মহারাষ্ট্রে। তারপর আনা হবে দেশজুড়ে। দ্বিতীয়ত, মৃত ব্যক্তির আধার যাতে আরও দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা যায়, তার জন্য ‘রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া’ এবং রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলা হবে। তৃতীয়ত, নতুন আধার বা তার সংশোধনের জন্য আবেদন করলে গ্রাহক ‘রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং’-এর সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ তিনি অনলাইনে তাঁর আবেদনের অগ্রগতি দেখে নিতে পারবেন। চতুর্থত, মোবাইলের ক্যামেরায় আঙুলের ছবি তুলেই আধার যাচাইকরণ সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে সরাসরি কোনো যন্ত্রে আঙুলের ছাপ দিতে হবে না। এই পরিষেবা চালু করার ভার দেওয়া হয়েছে বম্বে আইআইটিকে।
এছাড়া আধার সংক্রান্ত তথ্য মজুতের পরিধি বাড়াতে দেশে আরও একটি ডেটা সেন্টার তৈরির ভাবনা রয়েছে মোদি সরকারের। আধার ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণার ঘটনা ঠেকাতেও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নেওয়া উদ্যোগ নিচ্ছে ইউএডিএআই।