


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৯৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন আদৃত পাল। তিনি মহাকাশবিজ্ঞানী হতে চান। পাঠ্যবইয়ের বাইরে সময় পেলে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাপত্র পড়েন। পড়াশোনা শুধু নয় আদৃত গান ভালোবাসেন। এবং খাদ্যরসিক।
এই কৃতী ছাত্র এর আগে মাত্র এক নম্বরের জন্য মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জায়গা পাননি। উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম হয়ে সে দুঃখ ঘুচল। পাড়ার ছেলের এ হেন সাফলে উচ্ছ্বসিত বরানগর। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদৃতের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা শুভেচ্ছা জানাতে ছাত্রটির বাড়ি যান।
বনহুগলির একটি অভিজাত আবাসনে থাকেন আদৃতরা। ওঁর বাবা ডঃ জীবনকৃষ্ণ পাল বরানগর আইএসআই-এর অধ্যাপক। মা ডঃ ফাল্গুনী পাল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক। আদৃত তাঁদের একমাত্র সন্তান। পঞ্চম শ্রেণি থেকে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র।
এদিন দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী ভিডিও কলে আদৃতকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘আরও বড়ো হও। সমাজ, রাজ্য, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রবাদের জন্য কাজ কর। স্বামী বিবেকানন্দর চরৈবেতি চরৈবেতি মন্ত্রে এগিয়ে যাও।’ এরপর ওঁর বাবা ও মাকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সাফল্যে গোটা বাংলা গর্বিত। আমাদের সকলের, সর্বোপরি স্বামীজির আশীর্বাদ ওর উপর সবসময় আছে। খুব শীঘ্রই সচিবালয়ে ডেকে আদৃতকে সম্মান জানানো হবে।’
ফল প্রকাশের পর আদৃতের আচরণ সংযত এবং আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘ভালো ফল হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু প্রথম হব ভাবিনি। মাধ্যমিকে মাত্র এক নম্বরের জন্য র্যাংক হাতছাড়া হয়েছিল। তখন সবাই খুব দুঃখ পেয়েছিল। আজ মনে হচ্ছে সেই দুঃখ কিছুটা মেটাতে পেরেছি। র্যাংক করার জন্য পড়িনি। ভালোবেসে পড়েছি। বিষয়ের গভীরে ঢোকার চেষ্টা করেছি। তাই ভালো ফল আপনাআপনি হয়েছে।’ তারপর সাফল্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘শুধু নিজের পরিশ্রম নয়, স্কুলের শিক্ষকদের অবদান এই সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছে।’ তিনি জানান, হস্টেলের নিয়ম মেনে প্রতিদিন ছ’ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। গান-বাজনা ও ডায়েরি লেখার অভ্যাস আছে। আদৃতের মা-বাবা বলেন, ‘নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ, মহারাজদের অনুপ্রেরণা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্নেহই ছেলের সাফল্যের ভিত। আদৃত বলেন, ‘এমন শিক্ষা পরিকাঠামো ও পরিবেশ রাজ্যের অন্যান্য স্কুলেও গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
নিজের খাদ্যপ্রীতির উল্লেখ করে আদৃত বলেন, ‘নতুন খাবারের স্বাদ নিতে ভালোবাসি। তাই বাড়ি এলে রেস্তরাঁ থেকে খাবার অর্ডারের পাশাপাশি নিজেও রান্না করতাম।’ পরীক্ষার চাপ কাটার পর এবার প্রিয় বিরিয়ানি খাওয়ার পরিকল্পনা আছে তাঁর।