Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

‘চিকিৎসক’ মা শীতলা

‘চিকিৎসক’ মা শীতলা
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০৪
Prefer us on Google

তারকেশ্বরের ছোট্ট গ্রাম ছাওনাপুরে বাস গঙ্গোপাধ্যায়দের। কাছেই সরকার বাড়ি। হঠাৎ এক রাতে স্বপ্নাদেশ পেলেন দু’বাড়ির সদস্যরা। মড়ক থেকে রক্ষা পেতে গড়ে তুলতে হবে শীতলা মায়ের মন্দির। সে প্রায় কয়েক পুরুষ আগের কথা। স্বপ্নাদেশ মেনে প্রথমে মাটির ঘরে ঠাঁই পেলেন মা শীতলা। শুরু হল পুজো। ছাওনাপুর ছাড়িয়ে তারকেশ্বরের অন্তত ১৮-১৯টি গ্রামে শীতলাদেবীর মহিমা রটে গেল। ব্যস, ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল ভক্ত সমাগম। কথিত আছে, মা শীতলার সঙ্গে এসেছিল এক গাধা। প্রতিদিন দুপুর ১২টায় ঠিক সেই গাধা পৌঁছে যেত মন্দিরে। কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে তারপর সটান পিয়াসারা পুকুরে। কিছুক্ষণের অপেক্ষা। তারপর মন্দিরে ফেরা। গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, নিত্য এই সময়েই গাধার পিঠে চেপে মা স্নান করতে যেতেন। তারপর পুকুর থেকে ফিরে আসতেন মন্দিরে। এরপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। আজও শীতলা মায়ের মহিমা পিয়াসারা, ছাওনাপুর সহ নাইটা মালপাহাড়পুর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে। এলাকার বহু মানুষের আরাধ্যা দেবীও তিনি। গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য শ্যামাশিস চক্রবর্তী জানালেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানকার মানুষ শীতলা মা’কে চিকিৎসকের ভূমিকায় দেখেছেন। হাম-বসন্ত রোগ নিরাময় হোক বা নিজের সম্তানকে যে কোনও ব্যধি থেকে মুক্ত রাখার আর্জি—মায়ের কাছে বার বার ছুটে এসেছেন শত শত ভক্ত। গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য বরদাপ্রসাদ স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই  মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বংশানুক্রমে তাঁর ছেলে পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রঙ্কিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাঁধে আসে মন্দিরের দায়িত্ব। তাঁদের তিন মেয়ে—মাধবী, শান্তি ও আরতি। বর্তমানে এই তিন বোনের পরিবারই মন্দিরের শরিক। নিত্য পুজো থেকে শুরু করে বছরভর নানা অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তাঁরাই সামলান। বড় মেয়ে মাধবী মুখোপাধ্যায়ের ছেলে শ্যামাশিসবাবু বলছিলেন, বর্তমানে দেবীর মন্দিরে মূলত জলের সমস্যা। কাছের একটি পুকুর ক্রমশ বুজে যাচ্ছে। মন্দির লাগোয়া টিউবওয়েলেও প্রায়ই জল থাকে না। তাই আগত ভক্তরা জল নিয়ে সমস্যায় পড়েন। তবে মা জাগ্রত। আগামী দিনে হয়তো মায়ের কৃপায় এই সমস্যাও মিটে যাবে। এটুকুই আশা।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ