


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিলারে ফাটল। তাই হেলে গিয়েছে প্ল্যাটফর্মের একাংশ। কিছুটা বসে গিয়েছে গোটা কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনটাই। এই অবস্থায় এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই স্টেশন দিয়ে চূড়ান্ত ঝুঁকির যাত্রায় বাধ্য হচ্ছেন। আগেই এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল ‘বর্তমান’-এ। অভিযোগ, তারপরও কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। সেই ফাটল ক্রমশ চওড়া হতে হতে এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, সোমবার থেকে বন্ধই করে দিতে হল কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন। সূত্রের দাবি, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই স্টেশন দিয়ে যাত্রীবোঝাই মেট্রোর রেক চলাচল করতে পারবে না। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর রুটেই আপাতত মিলবে পরিষেবা। তবে কবি সুভাষ থেকে রুবি মোড় মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে। সেই মতো এদিনই কবি সুভাষ স্টেশনের অর্ধেকের বেশি কর্মী-অফিসারকে অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো ভবনের এক কর্তার কথায়, ‘ভিন রাজ্যের একাধিক সংস্থা পরিষেবা সাময়িক বন্ধ রেখে পিলার মেরামতি ও অন্যান্য সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু অজানা কোনও কারণে সেই কাজ করতে দেওয়া হয়নি। উল্টে সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর কীভাবে তা বাইরে এল, তা নিয়েই তদন্ত হয়েছে। যাত্রীদের প্রাণের ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।’
জানা গিয়েছে, সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ চালক লক্ষ্য করেন, কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী রেক যাত্রা শুরুর পরই জোর কম্পন হচ্ছে। ট্র্যাকের সমান্তরাল অংশ নড়ে গিয়েছে। এক চালকের কথায়, ‘টানা কয়েক মাস ধরেই এই সমস্যা চলছে। কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের নির্মাণ নিয়েই বহু প্রশ্ন রয়েছে। টালিগঞ্জের পর থেকে কবি সুভাষগামী মেট্রোর ট্র্যাক নির্মিত হয়েছে আদিগঙ্গার উপর। নরম কাদামাটি থাকায় বহু পিলারেই ফাটল ধরেছে। কবি সুভাষ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের উচ্চতায় গরমিল নিয়ে বহুবার জেনারেল ম্যানেজারের (জিএম) অফিসে আমরা রিপোর্ট করেছি। কিন্তু এই কাজে ওঁদের মন নেই। অথচ মেট্রো ভবনে ক’টি নতুন তল নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। বহু ফ্লোরে নতুন মার্বেল তুলে ফেলে ফের তা নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র কেনা হচ্ছে। অথচ সংবাদমাধ্যমে পিলারের ভগ্নদশার রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও কোনও হেলদোল নেই কর্তাদের।’ আগামী মাস অর্থাৎ আগস্টেই জিএম অবসর নিতে চলেছেন। তার আগে মেট্রো পরিষেবার এই অবস্থা নিয়ে বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে শহরে।