Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / খেলা

ক্লাবই আমার মন্দির

তখন ঐক্য সম্মিলনীতে খেলি। ময়দানে একটু আধটু নামও হয়েছে। ইস্ট বেঙ্গল মাঠে অফিসের খেলা

ক্লাবই আমার মন্দির
  • ২৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তখন ঐক্য সম্মিলনীতে খেলি। ময়দানে একটু আধটু নামও হয়েছে। ইস্ট বেঙ্গল মাঠে অফিসের খেলা। লাল-হলুদ পতাকা হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। সেদিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘যদি ইস্ট বেঙ্গলে একবার সুযোগ পাওয়া যেত…!’ ভগবান বোধহয় শুনতে পেয়েছিলেন আমার কথা। কিছুক্ষণ পরেই মাঠে এলেন ধোপদুরস্ত এক ভদ্রলোক। শুনেছিলাম, ইস্ট বেঙ্গলের পদস্থ কর্তা তিনি। সেই সুবীর ঘোষই আমায় লাল-হলুদে খেলার অফার দেন। মুখের কথাই অনেক দামী। পরবর্তীতে শৈলেন মান্না মোহন বাগানে খেলার প্রস্তাব দিলেও নম্রভাবে তা প্রত্যাখ্যান করি। সেই খবর বোধহয় ইস্ট বেঙ্গল কর্তাদের কানে পৌঁছেছিল। কেরল থেকে সন্তোষ ট্রফি খেলে ফেরার পথে খড়গপুরে তাঁরা হাইজ্যাক করলেন আমায়। পরবর্তীতে লাল-হলুদ তাঁবুই হয়ে ওঠে আমার মন্দির, আশ্রয় সবকিছুই। জীবনকৃতী সম্মান পেয়ে জীবনের বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।

Advertisement

দু’দফায় লাল-হলুদ জার্সিতে ১৬ বছর খেলেছি। যুব দলের কোচ হিসাবেও ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ২২ বছর। স্মৃতির ক্যানভাসে অসংখ্য মণিমুক্তোর ছড়াছড়ি। বিদায় বেলায় ভাঙা হাত নিয়েও বড়ো ম্যাচে আটকেছিলাম চিমাকে। মনে পড়ছে, অনেককিছুই। অবসরের এত বছর পরেও আলোচনায় ফিরে আসে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, তরুণ দে’র জুটি। দু’জনেই চুপচাপ। কিন্তু টেলিপ্যাথির যোগ। পারস্পরিক বোঝোপড়া ও বিশ্বাসই আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। পুরনো ঘটনা মনে পড়ছে। ইস্ট বেঙ্গলে তখন আমি বেশ জুনিয়র। সমীহ করতাম সিনিয়রদের। একদিন মিহিরদা বললেন, ‘তরুণ তুই কথা বল। আড্ডা দে। দেখবি চাপ অনেক কমে যাবে।’ পল্টুদা ছিলেন প্রকৃত অভিভাবক। আগলে রাখতেন শঙ্কর বাবাও। প্রাক্তন ফুটবলারদের ব্যাপারে বরাবরই আন্তরিক দেবব্রত সরকার। ক্লাবের পরিকাঠামোও তাক লাগিয়ে দেয়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলুক ইস্ট বেঙ্গল। আমার তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা রইল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ