


ক্লাইম্যাক্সে ‘সারেগামাপা’। জি বাংলার মিউজিক রিয়ালিটি শো-এর অন্তিম লগ্নের অগ্নিপরীক্ষায় মোট ছ’জন প্রতিযোগী। সায়ন্তনী ঘোষ, বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী , গীতশ্রী চৌধুরি, আয়ূষ গুপ্তা, সৃজন পোড়েল ও প্রমি গিরি। তার মধ্যে বিশ্বপ্রিয় ও প্রমি গিরি ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি পেয়েছেন। এই ছ’জনের মধ্যে সেরা চার জনকে নিয়ে হবে সারেগামাপা গ্র্যান্ড ফিনালে। এবারে প্রায় বিতর্কহীন ও বৈচিত্রে ঠাসা সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে স্মৃতিমেদুর পরিচালক অভিজিৎ সেন। বললেন, ‘এবার ফাইনালের লড়াই। শুরু হয়েছিল মোট ১২ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সেরা চারজনকে নিয়ে হবে সেরার লড়াই। এখন চলছে সেরা ছয় জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি গানের লড়াই। প্রতিযোগী, বিচারক, অতিথি, সঙ্গতকার সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মনে রাখার মত এক সংগীত সফর।’
প্রতিযোগীদের মান, তাঁদের পারফরম্যান্স, বিচারকদের যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণের জন্যই ‘সারেগামাপা’-র চলতি সিজন এখনও পর্যন্ত বিতর্কহীন বলেই মত অভিজিতের। এবার অতিথিদের আসন অলংকৃত করেছেন সুপর্ণকান্তি ঘোষ, কুমার শানু, তৌফিক কুরেশি, রাঘব সাচ্চার প্রমুখ ব্যক্তিত্ব। ছিল একাধিক বার ‘সারেগামাপা’-র বিচারক কিংবা অতিথির আসনে বসা সদ্য প্রয়াত সংগীত কিংবদন্তি আশা ভোঁসলেকে নিয়ে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বও।
এখনও পর্যন্ত বিচারকদের পারফরম্যান্স কেমন? হাসতে হাসতে অভিজিতের উত্তর, ‘শান্তনু মৈত্র, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, জিৎ গাঙ্গুলি, জোজো, কৌশিকী চক্রবর্তী, রূপম ইসলাম, শুভমিতা, অন্তরা মিত্র ও রূপঙ্কর বাগচীকে নিয়ে বিচারকের নবরত্ন সভার সেরা আবিষ্কার রূপম ইসলাম ও শুভমিতা। কারণ, নিজের রকস্টার ইমেজ ভেঙে বিভিন্ন বয়সি প্রতিযোগীদের রূপমের আপন করে নেওয়ার স্বতঃস্ফূর্ততা সত্যিই শিক্ষনীয়। কীর্তন, ভজন সব রকম গানে শুভমিতার প্রণোচ্ছলতা গোটা পরিবেশকে প্রাণীত করেছে।’ রূপম, শুভমিতার মতো এই প্রথম পুরো সময়ের জন্য বিচারকের আসনে আছেন শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ‘শ্রীরাধাদির মোটিভেশন, প্রতিযোগীদের প্রতি পরামর্শ, সব কিছুর মধ্যে আছে একজন প্রকৃত গুণী শিল্পীর বিনয় ও আন্তরিকতা,’ মুগ্ধতা অভিজিতের বর্ণনায়।
এবারের নতুন প্রাপ্তি? সুরকার জিৎ গাঙ্গুলির পর্যবেক্ষণ, ‘গান-বাজনারও আগে প্রতিযোগীদের ব্যবহার, নিয়মানুবর্তিতা, তাঁদের সংস্কার, বিশেষ করে বাংলায় এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার জীবনে দেখা সেরা প্রতিযোগী এরা। ভদ্র, নম্র, মনোযোগী। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো বাজনা বাজাতে পারে। একজন গাইছে, অন্যজন বাজিয়ে সঙ্গত করছে। এবার প্রতিযোগীরা প্রচুর বাংলা গান গেয়েছে। আর সেরা প্রাপ্তি বন্ধুত্ব। প্রতিযোগীরা শিখিয়ে দিয়ে গেল একে অপরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটাই যথার্থ শিল্পীর পরিচয়। যা আমাদের, বড়দের, প্রতিষ্ঠিতদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।’
প্রিয়ব্রত দত্ত