নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রেম দিবসে এই প্রথম বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রেম মানেই বাঙালির কাছে রবি ঠাকুর। তাঁর ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতাটির তিন লাইন তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।’ মমতার কলমে উঠে এসেছে, নিবিড় ভালোবাসার কথা। শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ, জাতির বেড়াজালকে অতিক্রম করে ভালোবাসার উদযাপনের কথা বলেছেন তিনি। ভালোবাসার এই আবেগই তাঁকে মানবসেবায় দিশা দেখায়। ন্যায়ের জন্য লড়াইকে দৃঢ় করে। সব শেষে তিনি লিখেছেন সেই অমোঘ বাক্য, ‘ভালোবাসা দীর্ঘজীবী হোক!’
ভালোবাসা যে দীর্ঘজীবী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সকাল থেকেই ভিক্টোরিয়ায় লম্বা লাইন। ময়দানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শাড়ি-পাঞ্জাবি। প্রিন্সেপ ঘাট কিংবা মিলেনিয়াম পার্কে যুগলরা হাতে হাতে রেখেছে প্রেমের দিব্যি দিয়ে। শহরের সর্বত্র প্রেমের উত্তাপ। রেস্তরাঁ-কাফে তো আছেই, তবুও প্রেম যেন জড়িয়ে রয়েছে ভিক্টোরিয়ার বাদামে কিংবা ময়দানের ঝালমুড়িতে বা গঙ্গাপাড়ের চায়ের ভাঁড়ে।
একদিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে, অন্যদিকে শনিবার, উইকএন্ড। ফলে ছুটি ছিল অনেকের। যে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ছুটি মেলেনি, তাঁরা তাড়াহুড়ো করে কাজ সেরে বেরিয়ে পড়েছেন দিনটি উপভোগ করতে। হাতে হাত রেখে হাঁটাই বা কম কীসের! কাছের মানুষকে নিয়ে ইতিউতি ঘোরা, কাঁধে মাথা, হাতে হাত— তিলোত্তমার রাস্তায় এভাবেই দেখা মিলল ‘ভালোবাসা’র। এমনিতেই ফটোগ্রাফির হিট ডেস্টিনেশন ময়দান কিংবা গঙ্গার ধার। ভালোবাসার দিনেও সেই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছে শহর। দমদমের সৌমালি অফিস ছুটি নিয়েছেন। বয়ফ্রেন্ড রজত পেশায় ব্যাংকের কর্মচারী। শখ ছবি তোলা। প্রেমদিবসে রজত যেন হাতে চাঁদ পেয়েছেন। সৌমালি আর রজত দু’জনেই লাল পোশাকে। রজত বললেন, ‘একদিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে, তার উপর দ্বিতীয় শনিবার— সব মিলিয়ে জমজমাট কাটবে দিন। অনেকে বলেন, আলাদা করে আবার ভালোবাসার দিন হয় নাকি? আমরা তো সময় কাটানোর জন্য ছুটি পাই না। তাই এমন একটা নির্ভেজাল ছুটির দিনে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপন না করে কি থাকা যায়! ময়দান ঘুরে সিনেমা দেখার প্ল্যান আছে।’
বাগবাজারে গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে প্রিন্সেপ ঘাট, বাবুঘাট। গঙ্গার পাড় সব সময় যুগলদের হিট ডেস্টিনেশন। সরস্বতী পুজো বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে গঙ্গার পাড়ে পোজ দিয়ে ছবি তোলেননি, এমন বাঙালির সংখ্যা হাতেগোনা। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালবাসার দিনে কলকাতার পথে ‘চল রাস্তায় সাজি ট্রাম লাইন’ হওয়ার প্রতিশ্রুতি। কলেজ জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে ভিক্টোরিয়ায় এসেই প্রজ্ঞাকে প্রপোজ করেছিলেন সুখেন্দু। সেই দিনটিও ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি! তাই প্রতি বছর নিয়ম করে এই দিনে ভিক্টোরিয়ায় আশা চাই তাঁদের। আগামী ডিসেম্বরে বিয়ে। সুখেন্দু-প্রজ্ঞার কথায়, ‘ব্যাচেলর হিসেবে এটাই আমাদের শেষ ভ্যালেন্টাইন্স ডে। তাই এই দিনটা মিস করা যাবে না। বাদাম আর ঝালমুড়ি মাস্ট। সন্ধ্যায় কোনও রেস্তরাঁয় খাওয়া দাওয়া সেরে বাড়ি ফিরব।’
এভাবেই কেটেছে ভালোবাসার দিন। সন্ধ্যা নামতেই হোটেল-রেস্তরাঁ, পানশালা, ডিস্কো, শপিং মলে থিক থিকে ভিড়। তবুও ভালোবাসার শহর কলকাতায় আজও অমর ভিক্টোরিয়ার গাছের ছায়া কিংবা গঙ্গার জলে নৌকা বিহারের নিভৃতবাস।