সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রক। কিন্তু দেশজুড়ে সেই সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এবার দ্রুত সেই সংস্কার শুরু করতে মরিয়া মোদি সরকার। গ্রাহক চড়া হারে বিদ্যুতের বিল দিচ্ছে। অথচ সেই অনুযায়ী পরিষেবা পায় না। মূল কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের সমন্বয়হীনতা, ভরতুকির ভারসাম্য না থাকা এবং যথার্থ সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর করতে না পারা। বিদ্যুৎ চুরি ঠেকানো যায়নি বহুলাংশে। রাজ্য সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার তুলনায় বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার পারফরম্যান্স ভালো। এসবিআই ক্যাপসের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত বছরগুলিতে দেশের সব রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার লোকসান কমেছে। তবুও সংস্কার কর্মসূচিকে সামগ্রিকভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন। আর এজন্য ৯টি রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণ করা হবে বলে বিদ্যুৎ মন্ত্রক সূত্রের খবর। কোন ন’টি রাজ্য? উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার, অসম, ছত্তিশগড়, গুজরাত ও উত্তরাখণ্ড। এ রাজ্যগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বেসরকারিকরণ জরুরি। এই সবুজ সংকেত শীঘ্রই মিলতে পারে। বিদ্যুৎ পরিষেবায় কত লোকসান হচ্ছে, সেটি বোঝা যায় এগ্রিগেট টেকনিক্যাল অ্যান্ড কমার্শিয়াল লসের শতকরা হিসাব বিবেচনা করে। গত ১০ বছরের সংস্কার কর্মসূচির জেরে এই লোকসান হার অনেক কমানো সম্ভব হয়েছে। ২০১৫ সালে যা ছিল ২৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে সেটি হয়েছে ১৫ শতাংশ। সাপ্লাই অ্যাভারেজ রেভিনিউ গ্যাপের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, ২০২১ সালের তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সেই বাবদ আর্থিক সুরাহার ভারসাম্য অনেক উন্নত হলেও দেশজুড়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণে সমতা আসছে না। কোনো রাজ্যে অনেক বেশি ক্ষতি হচ্ছে। কারণ যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই অনুপাতে টাকা ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। সেই তালিকায় এই ৯টি রাজ্য রয়েছে। তাই এই ৯টি রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে আর্থিক ভারসাম্য রাখতে সংস্কার করতে হবে। আর সংস্কারের প্রথম ধাপই হবে বেসরকারিকরণ। অন্যতম একটি ইস্যু হল স্মার্ট মিটার। এখনও বাংলায় স্মার্ট মিটার সর্বত্র চালু হয়নি। এই নিয়ে বিভ্রান্ত গ্রাহকরা। কিন্তু সেই বিভ্রান্তি কাটানোর চেষ্টা করা হবে। আদতে স্মার্ট মিটারে যে গ্রাহকদেরই সবদিক থেকে লাভ, সেটা বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সরবরাহ পর্যন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে স্বশাসিত কমিশন অথবা পর্ষদ তৈরি করতে হবে। একটি রাজ্যে একটিই বিদ্যুৎ সংস্থা বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করছে, এটা চলবে না। বিদ্যুতের বিলে স্বচ্ছতা আনতে অপারেশনাল প্যারামিটার বদলাতে হবে বলে ঠিক হয়েছে। সোজা কথায় গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চাইছে কেন্দ্র।



