হ্যানয়: ‘সৈকত থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ছিল আমাদের স্পিডবোট। একটি বড়ো ঢেউ ধাক্কা মারতেই নৌকাটি ডানদিকে উলটে যায়। যাত্রীরা একে অন্যের ঘাড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। কোনোমতে বোটের জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসি। রেলিং ধরে ঝুলছিলাম। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে উদ্ধারকারী দল এসে রক্ষা করে।’ এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে যাচ্ছিলেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা মুরুগারাজ। শনিবার ভিয়েতনামের বৃহত্তম দ্বীপ ফু কুওরে স্পিডবোট ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন ভারতীয়। তবে বরাতজোরে বেঁচে গিয়েছেন মুরুগারাজ, আশিস কুমার, নির্মল কুমারের মতো কয়েকজন। বিপর্যয়ের ২৪ ঘণ্টা পরেও তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। কথাবার্তা, শরীরি ভাষায় তা অত্যন্ত স্পষ্ট।
অন্ধ্রের বাসিন্দা আশিষ কুমার। পেশায় মোবাইল ফোনের ডিস্ট্রিবিউটর। তিনি জানান, আমরা ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ যে কী হয়ে গেল, বুঝতে পারলাম না। সাহায্যের জন্য সকলে হাহাকার করছিলেন। জানা গিয়েছে, একটি মোবাইল সংস্থার তরফে ভিয়েতনাম সফরে পাঠানো হয়েছিল ৩২ ভারতীয়কে। হ্যান্ডসেটি বিক্রির টার্গেট পূরণের পুরস্কার হিসাবে ওই ট্যুরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিশপ্ত বোটটিতে মোট ৩৬ জন ছিলেন। ৩২ জন ভারতীয় ও ৪ জন ক্রু মেম্বার। দুর্ঘটনার পর ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় তামিলনাড়ুর ১০, অন্ধ্রের তিন ও কেরলের দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের দেহ দেশে ফেরাতে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তিনটি রাজ্যের প্রশাসন। গোটা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তৎপর হয়েছে হ্যানয়ের ভারতীয় দূতাবাসও। এরমধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল সংস্থা জানিয়েছে, ভিয়েতনামের ভারতীয় দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। দেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে সমস্তরকম সাহায্যেরও আশ্বাস দিয়েছে তারা।