নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: দুপুরে প্রশাসন নাবালিকার বিয়ে আটকে দিয়েছিল। খুলে দেওয়া হয়েছিল প্যাণ্ডেল। কিন্তু অত্যন্ত গোপনে সেই রাতেই বিয়ে দেওয়া দেওয়া হয়েছিল নাবালিকার। দুই পরিবারের বিরুদ্ধে এবার এফআইআর করল মালদহ জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, বিষয়টিকে খুব কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। প্রিভেনশন অফ চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্টের ধারা ব্যবহার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচল-২ ব্লকের মালতিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আটঘরা গ্রামে ১৫ বছরের নাবালিকার বিয়ে হয়। যার সঙ্গে বিয়ে হচ্ছিল তার বাড়ি বিডিও অফিসের পাশেই। ব্লক প্রশাসনের তৎপরতায় গত ১৬ মে পুলিসকে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে পৌঁছন স্থানীয় চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার। সেখআনে তাঁরা জানতে পারেন, বিয়ে উপলক্ষে ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসন সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করে নিমন্ত্রিতদের ফিরিয়ে দেয়। প্যান্ডেল মালিককে ডেকে সমস্ত খুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মেয়ের বাবা-মাকে ডাকা হলেও ভয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চাইল্ড ম্যারেজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট অনুযায়ী ওই নাবালিকাকে সিডব্লিউসির (চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি) কাছে হাজির করতে হয়। নাবালিকাকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে না পাঠানোয় পুলিসের দ্বারস্থ হয় প্রশাসন। নাবালিকার পরিবার ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে গত ১৭ মে চাঁচল থানায় এফআইআর করা হয়।
এই ঘটনায় পরদিনই চাঁচল মহকুমার বিভিন্ন অঙ্গনওয়ারি সেন্টারে বাল্য বিবাহ রুখতে সচেতনতা মূলক প্রচার শুরু হয়েছে।