Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের এক সপ্তাহ পরও বেতন হয়নি অস্থায়ী কর্মীদের, উত্তাপ বাড়ছে ইংলিশবাজার পুরসভায়

চেয়ারম্যানের সই করে দেওয়ার এক সপ্তাহ পরও বেতন হয়নি অস্থায়ী কর্মীদের। এনিয়ে উত্তাপ বাড়ছে ইংলিশবাজার পুরসভার অন্দরে।

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের এক সপ্তাহ পরও বেতন হয়নি অস্থায়ী কর্মীদের, উত্তাপ বাড়ছে ইংলিশবাজার পুরসভায়
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: চেয়ারম্যানের সই করে দেওয়ার এক সপ্তাহ পরও বেতন হয়নি অস্থায়ী কর্মীদের। এনিয়ে উত্তাপ বাড়ছে ইংলিশবাজার পুরসভার অন্দরে। কেন তাঁদের বেতন আটকে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বর্তমান পুরবোর্ডের। শুধু অস্থায়ী কর্মীদের বেতন নয়, আটকে রয়েছে ঠিকাদারদের কয়েক কোটি টাকার কাজের বিল। পুরসভায় চরম ডামাডোল পরিস্থিতিতে কবে সেই বকেয়া বিল মিলবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ঠিকাদাররা। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সোমবার পুরসভায় যান। কিন্তু বকেয়া বিলের ব্যাপারে এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছ থেকে সদুত্তর মেলেনি বলে দাবি ঠিকাদারদের। সেপ্টেম্বর মাসের অর্ধেক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও আগস্টের বেতন না হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন অস্থায়ী কর্মীরা। কবে বেতন মিলবে, তার অপেক্ষায় কর্মীরা।

Advertisement

চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি সই করে দেওয়ার পরও অস্থায়ী পুরকর্মীদের বেতন আটকে রাখা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে এদিন কার্যত তোপ দেগেছেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। বলেন, এটা অমানবিক। পুরসভায় টাকা না থাকলে বুঝতাম, দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু তা তো নয়। অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ও ঠিকাদারদের বকেয়া বিল মেটানোর মতো টাকা তো আছে পুরসভায়। তাহলে আটকে রাখা হয়েছে কেন, বুঝতে পারছি না। ৯ সেপ্টেম্বর আমি ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগেই অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের বিলে সই করে দিয়েছি।
এদিকে, অস্থায়ী কর্মীদের সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের তরফে পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল, এদিন দুপুর পর্যন্ত তা জমা পড়েনি। অতিরিক্ত জেলাশাসক ভাস্কর মজুমদার বলেন, পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেছেন। হয়তো এদিনই হাতে পেয়ে যাব। ওই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট জমা পড়ার পর তা খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত কি ইংলিশবাজার পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের আগস্ট মাসের বেতন হবে না? সেক্ষেত্রে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? এসব নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার স্বাতী চক্রবর্তী। এদিন টেলিফোনে বলেছেন, জেলা প্রশাসনকে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের প্রসেসিং চলছে। পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ইংলিশবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। পুজোর আগে ইংলিশবাজার পুরসভায় অস্থায়ী কর্মীদের ঝাড়াই বাছাই হবে কি না তা নিয়েও জোর জল্পনা। প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, ইংলিশবাজার পুরসভার যা পরিকাঠামো, তাতে ৫১৭ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করার এক্তিয়ার রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বি ক্যাটিগরির এই পুরসভায় বর্তমানে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৬০০। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি খাতায়কলমে সাফাইকর্মী। এই বিপুল অস্থায়ী কর্মীদের অনেকেই পুরসভায় কাজ না করে প্রতিমাসে বেতন তুলছেন বলে অভিযোগ। যদিও কৃষ্ণেন্দুর দাবি, পুরসভায় কোনো ভূতুড়ে কর্মী নেই। যাঁরা আছেন, সবাই কাজ করেন। ইংলিশবাজার পুরসভার তৃণমূল বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সুমালা আগরওয়ালের তোপ, চেয়ারম্যান সই করে দেওয়ার পরও অস্থায়ী কর্মীদের বেতন সহ সমস্ত বিল আটকে রাখার উদ্দেশ্য কী, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। একটা নির্বাচিত পুরবোর্ডকে এভাবে গুরুত্বহীন করে দেওয়া মোটেই ঠিক নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ