Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অস্থায়ী কর্মীরাও অগাধ সম্পত্তির মালিক! পুরসভায় ‘কালীচরণ’দের খোঁজে পুরদপ্তর

কলকাতার পুরসভায় কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত শুরু, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

অস্থায়ী কর্মীরাও অগাধ সম্পত্তির মালিক! পুরসভায় ‘কালীচরণ’দের খোঁজে পুরদপ্তর
  • ৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: কলকাতার তারাতলা-কাণ্ডে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পুরসভার সর্বকম কর্তা হয়ে উঠা কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেই ফাঁস হয়ে পড়ে কলকাতা পুরনিগমে কালীর বহু কীর্তি। কিন্তু একা কালী নয়, আসানসোল হোক বা দুর্গাপুর, হাওড়া হোক কিংবা শিলিগুড়ি—বিভিন্ন পুরনিগম ও পুরসভায় ছড়িয়ে রয়েছে কালীর মতো কর্মী আধিকারিকরা। যাঁদের হাতেই পুরসভার রিমোট কন্ট্রোল। তৃণমূল নেতা, মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে লাগামছাড়া বেনিয়ম করে গিয়েছেন। করেছেন অগাধ সম্পত্তি। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া অস্থায়ী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের স্ট্যাটাস দেখে এলাকাবাসীর চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। এবার দুর্নীতিগ্রস্ত এই সব পুরকর্মী ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে বিজেপি সরকারের পুরদপ্তর। প্রতি পুরসভার কালীর মতো কর্মী আধিকারিকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করছে পুরদপ্তর। তৈরি হচ্ছে তালিকাও। সেটা চূড়ান্ত হলেই তদন্ত কমিটি গঠন হবে। খতিয়ে দেখা হবে অভিযুক্তদের বিষয়-আশয়ের খতিয়ান। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছেও সাহায্য প্রার্থনা করেছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বিশেষ করে ওইসব অফিসারদের সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।  

Advertisement

পুরমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূলের আমলে সর্বত্র দুর্নীতি হয়েছে। তৃণমূল নেতা জনপ্রতিনিধিরা দেদার লুট করেছেন। পাশাপাশি এক শ্রেণির কর্মী আধিকারিকও সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। সবার হিসাব হবে এবার। আমরা বড় আকারে তদন্ত শুরু করছি। সাধারণ মানুষও প্রয়োজনে নিজের নাম গোপন রেখে  আমাদের তথ্য দিতে পারেন।’ 
প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের অতি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন কালীচরণ। সেই পরিচয়ের দৌলতে কলকাতা পুরসভার যাবতীয় অনৈতিক কাজ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিল্ডিং প্ল্যানের ত্রুটি থেকেই এই ঘটনা। তখন উঠে আসে কীভাবে অর্থের বিনিময়ে বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ম বহির্ভুতভাবে অনুমোদন পেয়ে যেত। অনেকক্ষেত্রে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনকে ম্যানেজ করে বিনা প্ল্যানেই শহরের গজিয়ে উঠেছে বহুতল। সাধারণ বাসিন্দাদের জীবনের উপর বাজি ধরে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করেছেন বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা পুরকর্মী, আধিকারিকরা। সরকার বদলের পরই পুর আধিকারিকদের বিভিন্ন কীর্তি পুরদপ্তরের নজরে এসেছে। এনিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলেছেন পুরমন্ত্রী। শুধু বিল্ডিং প্ল্যান নয়, বিভিন্ন শহরের হাউসিং ফর অল প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মী, আধিকারিকদের একাংশও দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল। অযোগ্যরা অর্থের বিনিময়ে ঘর পেয়েছেন। সেখানে কাউন্সিলারদের একাংশ কাটমানি খেয়েছেন। আবার সরেজমিনে তদন্তে যাওয়া কর্মী, আধিকারিকদের ম্যানেজ করা হয়েছে অর্থের বিনিময়ে। দুর্গাপুর পুরসভায় এনিয়ে একাধিক বেনিয়ম পুরদপ্তরের নজরে এসেছে। একইভাবে টোল প্লাজা, প্রপার্টি ট্যাঙ্ক, পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা বহু আধিকারিকদের ফ্ল্যাট, প্রসাদোপম বাড়ির তথ্য এসেছে দপ্তরের শীর্ষস্তরে। দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে চলেছে বলে মন্ত্রীর ইঙ্গিত। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এইসব দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকরা বিভিন্ন এলাকার বিধায়ক, বিজেপির জেলাস্তরের নেতাদের ধরে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলে খবর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ