নিউ জার্সি: বিদায়বেলায় স্বপ্নভঙ্গ! ডিয়েগো মারাদোনার মতো লায়োনেল মেসিও পারলেন না টানা দু’বার বিশ্বকাপ জিততে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই দু’হাতে মুখ ঢেকে বসে পড়লেন বাঁপায়ের জাদুকর। চোখের কোণে জল। তা গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। এই দৃশ্য দেখে তারাদের দেশে ফুটবল রাজপুত্রেরও নিশ্চয় বুক ফেটে যাচ্ছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৯০ মেগা আসরের ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ডিয়েগো মারাদোনার। তাই মেসির কষ্টটা তিনি বুঝতে পারছেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে কাতারে প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। সেই কাপে চুমু খাওয়া, সতীর্থদের কাঁধে চড়ে মাঠ প্রদক্ষিণ— ফ্লাশব্যাকে সেই ছবিগুলোই বারবার মনে আসছে। আর সেটাই আপশোস বাড়াচ্ছে। এবারও তো তেমনই কিছু হতে পারত। কিন্তু ফুটবল দেবতা সহায় হল না। মেসির মতোই অবস্থা রডরিগো ডে পলের, লিয়ান্দ্রো পারেদেসের। তবে তরুণ ভ্যালেন্টিন, থিয়াগো আলমাডারা মাটিতে লুটিয়ে কাঁদছেন। তাঁদের যে এটা প্রথম বিশ্বকাপ। চায়ের কাপ আর ঠোঁটের দূরত্বটা যে রয়েই গেল, ফলে মন তো ভাঙবেই। স্কালোনি অবশ্য তৎপর। জেতার সময় যতই নির্বিকার থাকুন না কেন। হারের পর প্রতিটি ফুটবলারকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। রোমেরোকে বুকে টেনে বলছিলেন, ‘হতাশ হয়ো না। তোমরা যোদ্ধা। মাঠে বুক চিতিয়ে লড়েছ।’ ততক্ষণে স্পেনের কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তে এগিয়ে এসে স্কালোনিকে জড়িয়ে ধরলেন। এই ফুয়েন্তের তত্ত্বাবধানে কোচিং লাইসেন্স করে ছিলেন মেসিদের কোচ। শিষ্যকে হারানোর পর তাই সান্ত্বনা দিতে এলেন তিনি।
মিক্সড জোনে মেসিকে দেখতেই সাংবাদিকদের হুড়োহুড়ি। লিও নিজে থেকেই এগিয়ে এসে বললেন, ‘এই দলটার জন্য আমি গর্বিত। শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছি সবাই। টানা পাঁচটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলা মুখের কথা নয়। তারমধ্যে চারটি জিতেছি। তাই মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়ছি। আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেনকে অভিনন্দন। লামিনেরা দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। যোগ্য হিসেবেই জিতেছে তারা। তাদের কোচ ফুয়েন্তেরও প্রশংসা প্রাপ্য।’ কথাগুলি বলে মেসি বেরিয়ে গেলেন। হয়তো ফুটবলার হিসেবে শেষবার স্টেডিয়াম ছাড়লেন।