Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মহেশতলায় টিম অভিষেকই ভরসা শুভাশিসের ফুটবলের মাঠ ছেড়ে ভোটের ময়দানে ‘পদ্ম’ প্রার্থী

স্বপ্ন ছিল বড়ো ফুটবলার হবেন। এক সময় কলকাতা ময়দানের প্রথম ডিভিশনের ক্লাব ক্যালকাটা জিমখানার হয়ে খেলেওছেন

মহেশতলায় টিম অভিষেকই ভরসা শুভাশিসের ফুটবলের মাঠ ছেড়ে ভোটের ময়দানে ‘পদ্ম’ প্রার্থী
  • ১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বজবজ: স্বপ্ন ছিল বড়ো ফুটবলার হবেন। এক সময় কলকাতা ময়দানের প্রথম ডিভিশনের ক্লাব ক্যালকাটা জিমখানার হয়ে খেলেওছেন। পরবর্তী সময়ে বড়িষা ক্লাব ও সাদার্ন সমিতি হয়েও নিয়মিত খেলেছেন। কিন্তু নানা কারণে তাঁর স্বপ্নের ক্লাব ইস্টবেঙ্গলে খেলার সুযোগ হয়নি। যে খেলোয়াড় এক সময় রাজনৈতিক পরিসরকে এড়িয়ে চলতেন, শেষ পর্যন্ত তাতেই জড়িয়ে পড়েন তিনি। অতীতে বাম আমলে মহেশতলা ব্লক যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। তৃণমূল তৈরির সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস ছাড়েন তিনি। প্রথম দিন থেকেই তিনি তৃণমূল যুবর মহেশতলা টাউন সভাপতি, আলিপুর সাব ডিভিশনের চেয়ারম্যান এবং জেলার সাধারণ সম্পাদক। মহেশতলা পুরসভার বাম চেয়ারম্যান কালী ভাণ্ডারীকে হারিয়ে কাউন্সিলার হয়েছিলেন। তৃণমূল বোর্ড গঠন করলে স্বাস্থ্য বিভাগের সিআইসি সদস্য হন। তিনি ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। পরে বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক এবং পরে সহ সভাপতি হন। মহেশতলার ব্যানার্জি হাটের বাসিন্দা সেই তমোনাথ ভৌমিককে এবার মহেশতলা কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে পদ্ম শিবির।

Advertisement

এবার মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাসও শুরুর দিকে রাজনীতির বদলে পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন বেশি। তবে দূর থেকে দেখেছেন মা কস্তুরি দাস, বাবা দুলালচন্দ্র দাস ও দাদা দেবাশিস দাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এক সময় কস্তুরি দাস ও দুলালবাবু উভয়েই কংগ্রেসের কাউন্সিলার ছিলেন। কস্তুরি পরবর্তীকালে তৃণণূলের টিকিটে বিধায়ক হন। দুলালচন্দ্র দাস হন মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান। দেবাশিস হয়ে ওঠেন দলের সাংগঠনিক নেতা। কিন্তু মা এবং দাদার মৃত্যুর পর বাবাকে আড়াল থেকেই সাহায্য করতে শুরু করেন শুভাশিস। তবে নেতা হওয়ার বাসনা তাঁর ছিল না। ২০২২ সালে মহেশতলা পুরভোটে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আসেন তিনি। কার্যত সাংসদের বদান্যতায় পুরসভার মোট ১২টি ওয়ার্ডের পর্যবেক্ষক হন। এই কারণে এবার শুভাশিস প্রচারে বেরিয়ে বলছেন, বাবা অভিভাবক হলেও রাজনৈতিক গুরু হলেন অভিষেক। তিনিই আমায় এই জায়গায় তুলে এনেছেন। ফলে মহেশতলা কেন্দ্রে শুভাশিস ঘাসফুলের প্রার্থী হলেও বকলমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই এখানে সব। শুভাশিস তাঁর প্রচারে বলছেন, মহেশতলা জুড়ে যা উন্নয়ন হয়েছে, তার সব কৃতিত্বই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার নিরিখেই ভোট চাইছি।
এবার মহেশতলা কেন্দ্রে আইনজীবী সিপিএমের সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের শেখ আব্দুল মান্নান এবং বিজেপির তমোনাথ ভৌমিক তাঁর প্রতিপক্ষ হিসাবে লড়াইয়ে রয়েছেন। তা হলে কি চতুর্মুখী লড়াই? শুভাশিসবাবুর কথায়, এলাকার রাজনৈতিক পরিসরে মহেশতলায় কোনো লড়াই হবে না। একতরফা ভোট হবে। এখানে ব্যক্তি নয়, অভিষেকের টিম কাজ করবে। যদিও তাঁর এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী তমোনাথ ভৌমিক। তিনি বলেন, এবারে টক্কর হবে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। সিপিএম ও কংগ্রেস ধারে কাছে আসবে না। জেলায় যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোপাল মণ্ডল বলেন, ভোট হলেই বোঝা যাবে কোন কোন দল ফ্যাক্টর। সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল ও বিজেপির কাছে এবারের ভোট অত সহজ হবে না। ভোটের প্রচারে বেরিয়ে আমরা অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি।

সম্পর্কিত সংবাদ