Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রাজ্যে বৃদ্ধি পেল চায়ের উৎপাদন

খামখেয়ালি আবহাওয়া, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বাগানে রোগপোকার আক্রমণ বৃদ্ধি সহ নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে রাজ্যে বাড়ল চায়ের উৎপাদন।

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রাজ্যে বৃদ্ধি পেল চায়ের উৎপাদন
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: খামখেয়ালি আবহাওয়া, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বাগানে রোগপোকার আক্রমণ বৃদ্ধি সহ নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে রাজ্যে বাড়ল চায়ের উৎপাদন। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স মিলিয়ে কাঁচা চা পাতার উৎপাদন বেড়েছে ২৯ মিলিয়ন কেজি অর্থাৎ ২ কোটি ৯০ লক্ষ কেজি। টি বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে এ রাজ্যে ৩৮.২২ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। ২০২৫ সালে উৎপাদন হয়েছে ৪১.১১৮ কোটি কেজি। অর্থাৎ আট শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে। তবে গত কয়েক বছরের নিরিখে হিসেব করলে উত্তরবঙ্গে চায়ের উৎপাদন কমেছে। কারণ ২০২৩ সালে রাজ্যে উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ছিল ৪৩.৩৫৪ কোটি কেজি।

Advertisement

এদিকে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সামগ্রিকভাবে উত্তরবঙ্গে দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির উৎপাদন বাড়লেও দার্জিলিং চায়ের অবস্থা ভালো নয়। সেখানে উৎপাদন কমেছে। তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দার্জিলিংয়ে ৫৭.১ লক্ষ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়। সেখানে পরের বছর মিলেছে ৫৩ লক্ষ কেজি। অর্থাৎ কিছুটা হলেও কমেছে উৎপাদন।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাহাড়ে বেশিরভাগ বাগানে চা গাছ অনেক পুরনো হয়ে গিয়েছে। সেগুলি তুলে ফেলে নতুন করে বাগিচা তৈরির প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা দরকার। একারণে দার্জিলিং তথা উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের পুনরুজ্জীবনে কেন্দ্রীয় বাজেটে যাতে ‘স্পেশাল প্যাকেজ’ ঘোষণা করা হয়, তার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেব্যাপারে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি। কেন্দ্রের এই উদাসীনতা উত্তরের চা শিল্পের ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এবার রাজ্যে যেটুকু চায়ের উৎপাদন বেড়েছে, তার কারণ ডিসেম্বরে বাগানে পাতা তোলা গিয়েছে। ২০২৪ সালে টি বোর্ডের ফতোয়ায় ৩০ নভেম্বরের পর চা পাতা তোলা যায়নি। সেবছর বাগানে প্রচুর পাতা নষ্ট হয়ে যায়। এনিয়ে আন্দোলনের জেরে ২০২৫ সালে টি বোর্ড বাগানে পাতা তোলার মরশুম শেষের দিন ঘোষণা নিয়ে পিছু হঠে। স্বাভাবিকভাবেই ডিসেম্বরে ভালো পরিমাণ পাতা মিলেছে। যার কারণে আগের বছরের তুলনায় রাজ্যে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে।

টি বোর্ডের তথ্যে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, গত ডিসেম্বরে রাজ্যে ৩.৬৭৮ কোটি কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাতা মিলেছে তরাইয়ের বাগানগুলি থেকে, যার পরিমাণ ১.৯১৯ কোটি কেজি। গত ডিসেম্বরে ডুয়ার্সে উৎপাদিত হয়েছে ১.৭৪৮ কোটি কেজি চা। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তরাইয়ে ১৮.২৫২ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। তার আগের বছর ১৬.৩০৩ কোটি কেজি চা মিলেছিল তরাইয়ে। সদ্য পেরিয়ে আসা বছরে ডুয়ার্সে চা উৎপাদন হয়েছে ২২.৩৩৬ কোটি কেজি। ২০২৪ সালে ২১.৩৪৬ কোটি কেজি চা হয়েছিল ডুয়ার্সে।

ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স সোসিয়েশনের মুখ্য উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, কাঁচা চা পাতার উৎপাদন বেশি-কম যাই হোক না কেন, সামগ্রিকভাবে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের অবস্থা ভালো নয়। উৎপাদিত চা নিলামে বিক্রি হচ্ছে না। বিক্রি হলেও মিলছে না দাম। বাগানে রোগপোকা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রের সহযোগিতা নেই। বাজেটে চা শিল্প নিয়ে কিছু অন্তত ঘোষণা হবে ভেবেছিলাম। হতাশ হয়েছি। • প্রতীকী চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ