Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক পুরসভা: শোকজের জবাব গেল পুরদপ্তরে, দলত্যাগ ৩ তৃণমূল কাউন্সিলারের

তমলুক পুরসভায় ৩ তৃণমূল কাউন্সিলার দলত্যাগের ঘোষণা। প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা। বিস্তারিত পড়ুন।

তমলুক পুরসভা: শোকজের জবাব গেল পুরদপ্তরে, দলত্যাগ ৩ তৃণমূল কাউন্সিলারের
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রশাসনিক সংকটে জেরবার তমলুক পুরসভার কাউন্সিলারদের তরফে বুধবার শোকজ নোটিসের জবাব পৌঁছাল পুরদপ্তরে। কাউন্সিলারদের মধ্যে কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে, আবার কয়েকজন শোকজ নোটিসের জবাব পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে একত্রে ই-মেল করে দিয়েছেন। এদিনই তৃণমূলের তিন কাউন্সিলার দলত্যাগ করার কথা সংবাদমাধ্যমে ঘোষণা করেছেন। তমলুক পুরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার চন্দন দে, ৮নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সৌমেন চক্রবর্তী ও ১৭নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অলোক সাঁতরা এদিন বলেন, আমরা বুধবার থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লাম।

Advertisement

গত ১৫দিন ধরে ১৬২বছরের প্রাচীন তমলুক পুরসভা অভিভাবকহীন। পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারপার্সন ইস্তফা দিয়েছেন। সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন অবসরের পর এক্সটেনশনে থাকা এগজিকিউটিভ অফিসার। ১০জুলাই নতুন বোর্ড গঠনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারির পরেও সেটা হয়নি। বিজেপির তরফে বোর্ড গঠনের তদ্বির শুরু হলেও তৃণমূল কাউন্সিলারদের সমর্থন পাওয়া চূড়ান্ত না হওয়ায় সেটা ভেস্তে যায়। এই অবস্থায় পুরসভায় শতাধিক কর্মী জুন মাসের মা‌ই঩নে পাচ্ছেন না। কারণ, তাঁদের পে অর্ডারে সই করার কেউ নেই। জন্ম-মৃত্যু সার্টিফিকেট, ওয়ারিশন সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে মানুষজন এসে হতাশ হয়ে ঘুরে যাচ্ছেন। পুরসভার আর্থিক লেনদেন বন্ধ। পুরসভায় নজিরবিহীন সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়টি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে দু’দফায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়। তারপরই সোমবার শোকজ নোটিস আসে। তিন দিনের মধ্যে জবাবদিহি চাওয়া হয়। তার ভিত্তিতে বুধবার পুর দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের ই-মেলে কাউন্সিলাররা জবাবদিহি পাঠিয়েছেন। সেখানে সামগ্রিক সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। এই অবস্থায় পুরদপ্তর নতুন বোর্ড গঠনের বিজ্ঞপ্তি দেবে নাকি প্রশাসক নিয়োগ করবে, সেটা নির্দিষ্ট সময়ে জানা যাবে। তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের তিন কাউন্সিলারের দলত্যাগের ঘটনায় জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁরা বোর্ড গঠনে বিজেপির হাত ধরতে পারেন বলে খবর। সেক্ষেত্রে পুনরায় বোর্ড গঠনের নির্দেশ আসে কি না, সেটা‌ই ঩দেখার। 
২০২৭ সালে পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। গত ৪মে পালাবদলের পর প্রাচীন এই পুরসভার বোর্ডে ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়। যে কারণে ২৯জুন চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহা ইস্তফা দিয়েছেন। ৭জুলাই ভাইস চেয়ারপার্সন সুফিয়া বেগম ইস্তফা দিয়েছেন। বুধবার শোকজের জবাব পৌঁছনোর পরই পুর দপ্তরের পক্ষ থেকে একটা সমাধান সূত্র বের করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে অনুমান। সেটা নতুন বোর্ড গঠন নাকি প্রশাসক নিয়োগ, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শহরবাসী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ