Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঙালি হওয়ায় শ্রমিকের সৎকারে নারাজ তামিলনাড়ুর শ্মশান! দেহ ফিরল টাকিতে

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এবার আরও এক বেনজির ঘটনা ঘটল তামিলনাড়ুতে।

বাঙালি হওয়ায় শ্রমিকের সৎকারে নারাজ তামিলনাড়ুর শ্মশান! দেহ ফিরল টাকিতে
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এবার আরও এক বেনজির ঘটনা ঘটল তামিলনাড়ুতে। একের পর এক শ্মশানে ঘুরলেও দুর্ঘটনায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ সৎকার করতে দেওয়া হল না কোথাও। শেষ পর্যন্ত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের নিথর দেহ ফিরল ঘরে। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম নীলমণি ঘোষ (৫৩)। বাড়ি বসিরহাটের টাকি শহরে। 

Advertisement

এসআইআর বিতর্কের আবহে ভিন রাজ‍্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে হেনস্তা বা থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বারবার। এই আবহে ভিন রাজ‍্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃতদেহ সৎকার করতে না দেওয়ার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নীলমণিবাবু দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর কুমারা পার্লালামে একটি কাপড় ফ‍্যাক্টরিতে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে কারখানায় কাজ করার সময় সিঁড়ি থেকে পা পিছলে পড়ে যান তিনি। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার মারা যান তিনি। পরিবারের দাবি, নিয়ম মেনে হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। নিহতের যাবতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাওয়ার পর মৃতদেহ সৎকারের উদ্যোগ নেন কারখানার মালিক নিজেই। কিন্তু বিভিন্ন শ্মশানে ঘুরেও দেহ সৎকার করতে ব্যর্থ হন। পরিচয়পত্র দেখে একাধিক শ্মশান কর্তৃপক্ষ নীলমণিবাবু বাঙালি বলেই সেখানে সৎকার করা যাবে না বলে জানায়। মৃতের দাদা অসিত ঘোষ বলেন, ‘ভাই মাস দু’য়েক আগে টাকির বাড়িতে এসেছিল। গত মঙ্গলবার জানতে পারি, সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিল কারখানায়। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়। আমরা কারখানার মালিককে বলেছিলাম, ওর দেহ যেন ওখানেই সৎকার করা হয়। কিন্তু তা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা বাড়িতে দেহ নিয়ে আসি।’ বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, ‘ঠিক কী ঘটেছে, জানা নেই। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে সেখানকার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এখনই এনিয়ে কিছু বলব না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ