


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশেষ বিশেষ রঙের অনুভূতি কম ছিল! জেনে অবাক হলেন তো? তবে সব রঙই যে আলাদাভাবে চিনতে পারতেন না, এমনটা নয়। তিনি ছিলেন আংশিক বর্ণান্ধতার শিকার। বিশ্বকবি লাল এবং সবুজ রঙ আলাদাভাবে চিনতে পারতেন না। তাঁর চোখে এই দু’টি রং পৃথক নয়। এই রোগের অবশ্য কোনও চিকিৎসা নেই। তাই রবীন্দ্রনাথের এই রোগের নিরাময় করা যায়নি। বিশ্বকবি যে আংশিক বর্ণান্ধ ছিলেন, তা তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। নিজেকে বলতেন ‘রঙকানা’। ১৮৯৪ সালে এক চিঠিতে ভাইঝি ইন্দিরা দেবীকে লেখেন, ‘কত রকমেরই যে রঙ চতুর্দিকে ফুটেছিল, তা আমার মতো সুবিখ্যাত রঙকানা লোকের পক্ষে বর্ণনা করা ধৃষ্টতামাত্র!’ সেই কারণে রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখাতে বেশিরভাগই ‘লাল’ এর বদলে ‘রাঙা’ এবং সবুজের বদলে ‘শ্যামল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। রবীন্দ্রনাথ যে বর্ণান্ধ ছিলেন, তা ভাইঝি ছাড়া কাউকে জানাননি। তবে ১৯৩৪ সালে রবীন্দ্রনাথের বান্ধবী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো তা বুঝতে পেরেছিলেন। সেই সময় ওকাম্পোর অনুপ্রেরণাতেই ছবি আঁকা শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন দেশে রবীন্দ্রনাথের ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলেন ওকাম্পো। সেই ছবিগুলিতে লাল ও সবুজ রঙের আধিক্য ছিল না। শিল্পবোদ্ধারা তাঁর ছবি নিয়ে গবেষণার সময় বিষয়টি লক্ষ্য করে ওকাম্পোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাতেই রবীন্দ্রনাথের ওই আংশিক বর্ণান্ধতার কথা তাঁরা জানতে পারেন। রবীন্দ্রনাথ শেষ জীবনে প্রায় আড়াই হাজারের মতো ছবি এঁকেছেন। সেই ছবিগুলিতে লাল ও সবুজের ব্যবহার সরাসরি না থাকলেও অন্য রঙের সঙ্গে মিশ্রণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই ছবিগুলি গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছে। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গও বর্ণান্ধ। তিনি লাল, সবুজ এবং হলুদ রঙ দেখতে পান না। ঠিক সেই কারণেই ফেসবুকের লোগোতে আকাশি রং ব্যবহার করা হয়েছে।