ওয়াশিংটন: কয়েকদিন আগের কথা। বিহারে বিধান পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল ব্যালট পেপারে। ৬৯ হাজার ১৪১টি ব্যালট গুনতে সময় লেগেছিল ৫৭ ঘণ্টা! আমেরিকার মিড-টার্ম নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ হয়েছে ব্যালট পেপারে। অথচ ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফল বের হতে শুরু করে। ১০ কোটিরও বেশি ব্যালট কীভাবে এত দ্রুত গোনা গেল? ভারতে কেন দ্রুত ব্যালট গোনা সম্ভব হয় না—তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নির্বাচন পদ্ধতির পার্থক্যের জন্যই ভারতের তুলনায় মার্কিন মুলুকে ব্যালট গোনা অনেক দ্রুত সম্ভব।
দুই দেশের ভোটগ্রহণ পদ্ধতির ফারাক কোথায়? ভারতে ব্যালটে ভোট হলে তা হাতে গোনা হয়। কিন্তু আমেরিকায় তা নয়, সেখানে ব্যবহার করা হয় স্ক্যানিং মেশিন। মার্কিন নাগরিকরা কাগজের ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর পাশে টিক বা গোল চিহ্ন দেন। গণনার সময় ব্যালট পেপারটি মেশিনে ঢুকিয়ে দিলেই নির্দিষ্ট প্রার্থীর নামে ভোট জমা হয়ে যায়। ফলে প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার ভোট গণনা করা যায়। বড়ো গণনাকেন্দ্রগুলিতে হাইস্পিড স্ক্যানিং মেশিন থাকে। মিড-টার্ম নির্বাচনের জন্য আমেরিকাজুড়ে ১০ হাজারের বেশি গণনাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। মেশিনে গণনা হলেও প্রতিটি ব্যালট পেপার সংরক্ষণ করা হয়। নির্বাচন নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে, তখন ব্যালট ফের পরীক্ষা করা হয়।
এছাড়া নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনের আগেও মার্কিনরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। সরকারিভাবে ৩ নভেম্বর মিড-টার্ম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও প্রায় ৬ কোটি মানুষ আগেই ভোট দিয়ে দিয়েছিলেন। সেগুলির গণনাও শুরু হয়ে যায়। তবে, নির্দিষ্ট সময়ের আগে সেই ফল সামনে আনা হয় না। ভারতে প্রতিটি ভোট গণনার শেষেই একজন প্রার্থীকে জয়ী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। আমেরিকার ক্ষেত্রে নিয়ম অন্য। যদি প্রতিদ্বন্দ্বীদের জেতার কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে সব ভোট গোনার আগেই এগিয়ে থাকা প্রার্থীকে জয়ী বলে ধরে নেওয়া হয়। যে কারণে, নির্বাচনে কারা জিততে চলেছে, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে, সরকারিভাবে গণনা প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েকদিন অথবা কয়েক সপ্তাহও লেগে যায়।



