


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদে ফলছে আঙুর। কয়েক শতক জমিতে আঙুর চাষ করে তাক লাগিয়েছেন হরিহরপাড়ার সলুয়া গ্রামের যুবক শেহেরুল শেখ। এখন শেহেরুলের গাছভর্তি থোকা, থোকা আঙুর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। কেউ কেউ নিজের বাগানে আঙুর ফলানোর জন্য তাঁর কাছ থেকে পরামর্শও নিচ্ছেন। একটি গাছেই প্রায় একশো থোকা আঙুর ফলিয়েছেন ওই ব্যক্তি। বাজারে চড়া দামে বিক্রিও হচ্ছে সেই আঙুর। সেইসঙ্গে বেদানা, কমলালেবু ও মৌসম্বি লেবুর চাষ করছেন কয়েক শতক জমিতে। নিজেই পরিকল্পনা নিয়ে অন্য ফলের পাশাপশি আঙুর চাষ শুরু করে হাতেগরম ফলন পেয়েছেন। আগামীতে বড়ো জমি নিয়ে চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি। মুর্শিদাবাদের মতো চরম আবহাওয়ায় এই চাষ যথেষ্ট নজিরবিহীন বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।
শেহেরুল বলেন, প্রথমে ছাদবাগানে ফল গাছ লাগানো শুরু করি। ভাল ফলন হয়েছিল। তারপর বন্ধুর কয়েক শতক জমি নিয়ে বেদানা ওআঙুর গাছ লাগিয়ে গাছের পরিচর্যা শুরু করি। এখন ফলন শুরু হয়েছে। ভাল মিষ্টি আঙুর হয়েছে। এই চাষ আগামীদিনে বহু যুবককে উপার্জনের দিশা দেখাতে পারে।
মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় মূলত ধান, পাট, সর্ষে ও কিছু সবজির চাষ হত। কিন্তু বছর পঁচিশের যুবকের হাত ধরে আধুনিক উপায়ে কম খরচে আঙুর চাষ রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। মোটা টাকার উপার্জনের আশায় অনেকেই নিজেদের জমি চাষের কাজ ছেড়ে ভিন রাজ্যে এমনকী ভিন দেশে পাড়ি দেয়। জেলায় লাগাতার পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এমন অর্থকরী ফসলের চাষ করতে পারলে যুবকদের আর ঘর ছাড়তে হবে না। বাড়ি বসেই কিছুটা চাষ যোগ্য জমিতে গড়ে তোলা যায় আঙুরের বাগিচা। কীভাবে এই যাত্রা সম্ভব সেই উপায় বাতলে দিচ্ছেন শেহেরুল। তিনি বলেন, আমি এক সময় পাগলের মতো এইরকম নানা ফলের গাছ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতাম। তখন লোকজন কটাক্ষ করত। কিন্তু সেসব কথায় কান দেইনি। আঙুর গাছ লাগিয়ে পরীক্ষা করেছিলাম। ফলন হওয়ায় আমি বন্ধুর মাঠের জমিতে চাষ করেছি। এক একটি গাছে প্রচুর মিষ্টি আঙুর হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এই চাষ হলেও আগামীতে এর পরিধি আরও বাড়বে।
আঙুরের পাশাপাশি বেদানা ও লেবুর মতো দামি ফলের চাষ করলেও ভালো উপার্জন হতে পারে বলে দাবি করেছেন শেহেরুল। তিনি বলেন, এই আঙুরের জাত এত ভাল যে, সামান্য পরিচর্যাতেই গাছ দিব্যি বেড়ে উঠেছে। সাধারণ সবজি চাষে যেমন পরিচর্যার দরকার হয়, এক্ষেত্রে একই পরিচর্যাতেই ভাল ফলন হবে। আলাদা করে সারের দরকার হয় না। আমি অনেক যুবকদের বলছি সময় নষ্ট না করে এখনই এভাবে আঙুরের বাগিচা তৈরি করতে পারে তাঁরা। এই আঙুরেই মিলবে রোজগারের দিশা। -নিজস্ব চিত্র