


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রাজ্যে সরকার বদল হতেই তৃণমূলের মন্ত্রী, নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট করা হচ্ছে। বীরবাহা হাঁসদা সহ ঝাড়গ্রাম জেলার তৃণমূলের একাধিক নেতা নিরাপত্তা রক্ষী পেতেন। তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে জেলা পুলিশ। ঝাড়গ্রাম জেলার এসপি মানব সিংলা বলেন, যেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন হচ্ছে। মন্ত্রী থেকে হেভিওয়েট নেতাদের নিরাপত্তা রক্ষী তুলে নেওয়া সেই পরিবর্তনেরই অঙ্গ। জেলার শাসক ও বিরোধী দলের নেতারা সরকারি নিরাপত্তার সুবিধা পেতেন। প্রাক্তন বনমন্ত্রী ছাড়াও জেলা তৃণমূলের চার প্রাক্তন বিধায়ক, জেলা তৃণমূলের সভাপতি, সহ সভাপতি ছাড়া বেশকিছু ছোটবড় নেতা নিরাপত্তার সুবিধা পেতেন। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একে একে পূর্বতন শাসক দলের নেতাদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূলের পরাজিত বিধায়কদের নিরাপত্তা ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সাংসদ কালীপদ সরেন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই নিরাপত্তা পাবেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চিন্ময়ী মারান্ডিও নিরাপত্তা পাচ্ছেন। জেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষের নিরাপত্তা বহাল থাকবে, না প্রত্যাহার করা হবে তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ঝাড়গ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান শিউলি সিংহের বাড়িতে দু'জন গৃহরক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে। জেলার বেশকিছু তৃণমূল নেতা কোনো পদে না থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার সুবিধা পাচ্ছিলেন। সেই তালিকায় শাসক দলের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। জেলার পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। নিয়মের আওতার মধ্যে যাঁরা পড়েন, তাঁদেরই নিরাপত্তা দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর কারও নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। প্রয়োজন না থাকলে তাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেও নেওয়া হয়। জেলার বিজেপি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, তৃণমূলের মেজো, সেজো, ছোট নেতারা সশস্ত্র পুলিশ রক্ষী নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। স্থানীয় স্তরে নিজেদের প্রভাব দেখানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা এদিন বলেন, পদাধিকার অনুযায়ী এতদিন আমার নিরাপত্তা ছিল। তবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কোনোদিন নিইনি। নিরাপত্তা বহাল থাকবে, না প্রত্যাহার করা হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। জেলার প্রথম সারির এক তৃণমূল নেতা এদিন বলেন, ভোটের ফল প্রকাশের দিন থেকে নিরাপত্তা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। দলের যেসব নেতা এতদিন নিরাপত্তা পেতেন তাদের বিষয়ে বলতে পারব না। ঝাড়গ্রাম জেলা সিপিএমের সম্পাদক প্রদীপ সরকার বলেন, তৃণমূল শাসনে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ পুলিন বিহারী বাস্কে আবেদন করেও নিরাপত্তা পাননি। আবার বিনপুর বিধানসভার সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক হাঁসদাকে আবেদন ছাড়াই নিরপত্তা দেওয়া হয়েছিল। দলীয়ভাবে আমরা মনে করি, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুখময় শতপথী বলেন, তৃণমূল নেতা মানেই সরকারি সুবিধা পাবে, নিরপত্তা পাবে, সে প্রয়োজন থাক বা না থাক। সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষী স্ট্যাটাস সিম্বলে পরিণত হয়েছিল। বিজেপি সরকার নিয়ম মেনেই নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে।