নেতৃত্বকে বৈভব নিয়ন্ত্রণের বার্তা শুভেন্দুর
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে রেকর্ড মার্জিনে জয়ের পর বিজেপি নেতাদের বৈভব নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশেষ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার রেয়াপাড়ায় বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে জমি আন্দোলনের হতাহত পরিবারের সদস্যদের পুজোর উপহার সামগ্রী প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় উপলক্ষ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৮ সাল থেকেই দেবীপক্ষের সূচনায় তিনি এই কাজ করে আসছেন। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতাদের সতর্ক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিশানা করেন শেখ সুপিয়ানের জাহাজবাড়িকে। তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষেত্রে দল, সংগঠন এবং সর্বোপরি মানুষকে নিয়ে চলতে হবে। ঔদ্ধত্য, অহংকার, চালচলন এবং নির্বাচিত পঞ্চায়েত নেতাদের আচার ব্যবহার নিয়ে যেন প্রশ্ন না ওঠে। আগামী দিনে যেন কেউ বলতে না পারেন-আপনারাও জাহাজবাড়ি তৈরি করেছেন! এটা মাথায় রেখেই সকলে চলবেন। প্রথমে জনগণকে দেখবেন। এবং কর্মীদের স্বার্থ দেখবেন।’

Advertisement

পালাবদলের পরই নেতাদের অনেকের চালচলন পালটে গিয়েছে। দামি গাড়ি কেনার প্রবণতা বেড়েছে। কেউ কেউ সেই গাড়ির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করছেন। রাতারাতি এই বদল মানুষ ভালো চোখে দেখছেন না। নন্দীগ্রামে বিপুল মার্জিনে জয়ের পর নেতাদের দম্ভ আরও বাড়তে পারে সেটা আন্দাজ করেই মুখ্যমন্ত্রী বৈভব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ বার্তা দিলেন বলে অনেকেই মনে করছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রীর ২৫ মিনিটের বক্তব্যে শুধুমাত্র নেতাদের চালচলন নিয়ে বিশেষ বার্তার মুহূর্তে হাততালির ঝড় ওঠে।
নন্দীগ্রামে ১লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটে হাসিরানি রথ জেতার পর রবিবার প্রথম পা রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে নন্দীগ্রামের জন্য তাঁর পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি অঙ্গীকার করেছি-ভবানীপুরের বিধায়ক থাকব। আর, নন্দীগ্রামে আমৃত্যু ভোটার থাকব। নবরাত্রির প্রথম দিনে মাতৃপক্ষে এটুকু আপনাদের বলতে চাই। এছাড়া, আমার বিধায়ক কার্যালয়, পরিষেবা প্রদান সবকিছু অক্ষুণ্ণ থাকবে। নন্দীগ্রামে দ্রুত রেললাইন কার্যকর করা। প্রথম পর্যায়ে হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সংযোগকারী সেতু হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তেরপেখ্যার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ঘটবে। সংস্কার করা হবে ওড়িশা কোস্ট ক্যানাল। নন্দীগ্রাম হাসপাতালে সবধরনের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা। ১৭ হাজার পরিবারকে দ্রুত আবাসের বাড়ি দেওয়া হবে। ১৭টি পঞ্চায়েতে জবকার্ড প্রাপকদের ১২৫ দিনের কাজ নিশ্চিত করা হবে। নন্দীগ্রামে ৭০ হাজার ৩০০ জন অন্নপূর্ণার সুবিধা পাচ্ছেন। ওয়েটিং লিস্টে থাকা বাকিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া, পরিযায়ী শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে এনে শিক্ষিত বেকারদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নন্দীগ্রামে লোকপ্রসার প্রকল্পে বঞ্চিতদের পরিষেবা দেওয়া হবে। সব জায়গায় ঢালাই রাস্তা হবে। কাঠের ব্রিজ পাকা করা হবে। ভাড়াবাড়িতে চলা আইসিডিএস সেন্টার স্থায়ী ঘর পাবে। এদিন ভোটের কারিগরদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। মেঘনাদ পাল থেকে প্রলয় পাল, অঞ্জন ভারতীসহ পাঁচ মণ্ডল সভাপতি, পঞ্চায়েত সমিতির দুই সভাপতি, জেলা পরিষদের দুই সদস্যা প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করেন। প্রত্যেককে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। মহাষষ্ঠীর দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নন্দীগ্রামে দুটি ব্লকে একাধিক দুর্গাপুজো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন বলেও তিনি জানিয়ে দেন।-নিজস্ব চিত্র