


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: একদিকে আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলা, অন্যদিকে ইরানের প্রত্যাঘাত। ভারত মহাসাগরেও ইরানি যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করে ডুবিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হ্যাম রেডিয়োর তরঙ্গে বার্তা বিনিময় করছে সন্দেহভাজনরা! তারা অত্যাধুনিক ডিজিটাল মোডে বার্তা বিনিময় করছে। অর্থাৎ, কোড ল্যাঙ্গুয়েজে। এখনো পর্যন্ত তা ডি-কোডও করা যায়নি। এই বিষয়টি সামনে আসার পরই অ্যামেচার রেডিয়োর ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু, কী বার্তা চলছে, কাদের মধ্যে চলছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কিনারা হয়নি। একাধিক কেন্দ্রীয় এজেন্সি বার্তার ডি-কোড করার চেষ্টা করছে।
হ্যাম রেডিয়োর নিজস্ব তরঙ্গ রয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত হ্যাম অপারেটররা সেই তরঙ্গে নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। প্রত্যেকের একটি কলসাইন রয়েছে। ওই কলসাইনই তাঁর পরিচয়। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন সকালে হ্যাম অপারেটররা লাইভ স্ট্রিমিংয়ে যুক্ত হন। বৃহস্পতিবার উত্তরপাড়া থেকে দীপক চক্রবর্তী নামে এক দক্ষ হ্যাম অপারেটর বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি হ্যাম রেডিয়োর ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাসকে জানান। তিনি দেখেন, এইচএফ রেডিয়ো সিগন্যাল ব্যবহার করছে সন্দেহভানজরা। টানা ডিজিটাল মোডে বার্তা বিনিময় চলছে। যা এনক্রিপটেড। অর্থাৎ, কোডে কথা বলছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, হ্যাম রেডিয়োর নির্দিষ্ট ওয়াট থাকে। এক্ষেত্রে সেই ওয়াটের বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া, এইচএফের ফ্রিকোয়েন্সি মাঝে মাঝে আপডাউন করে। কিন্তু, এক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী সিগন্যাল রয়েছে। শুক্রবার দিনভর ওই বার্তা ডি কোড করার চেষ্টা করা হয়। তা করা না গেলেও সূত্রের খবর, উৎস জানা গিয়েছে। গভীর সমুদ্র থেকে ওই ডিজিটাল বার্তা বিনিময় চলছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা ভেবে বিষয়টি নজরে আসামাত্রই আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক দপ্তরে জানিয়েছি। কারণ, এই বার্তা বিনিময় আমাদের হ্যামের নয়। এসব যথেষ্ট সন্দেহজনকও।