


বেঙ্গালুরু: এশিয়া কাপের জন্য ফিটনেস টেস্টের মুখে সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়া। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে উভয়েরই ফিটনেস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জুনে মিউনিখে স্পোর্টস হার্নিয়া অস্ত্রোপচার হয়েছিল সূর্যর। এনসিএ’তে রিহ্যাবের পর এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি। ট্রেনিং এবং ব্যাটিং শুরু করেছেন। সম্ভবত আরও এক সপ্তাহ ‘স্কাই’ এখানেই থাকবেন। এশিয়া কাপের এখনও প্রায় মাসখানেক বাকি। সেজন্যই টেনশনের কিছু নেই।
হার্দিকের আবার সোমবার একপ্রস্থ ফিটনেস টেস্ট হয়েছে। মঙ্গলবারও তা হবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্র্যাকটিস শুরু করেছেন তিনি। ৩১ বছর বয়সি অলরাউন্ডার ২০০৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জয় এবং চলতি বছরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাজিমাতের নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। মিডল অর্ডারে ঝোড়া ব্যাটিং ছাড়াও তৃতীয় পেসার হিসেবে হার্দিক অপরিহার্য। তাই তাঁর ফিটনেস দেখে নিতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
এর আগে এনসিএ’তে ফিটনেস যাচাই করে গিয়েছেন শ্রেয়স আয়ার। ২৭-২৯ জুলাই তিনি ছিলেন এখানে। শ্রেয়সের নেতৃত্বে এই বছর আইপিএলের ফাইনালে উঠেছিল পাঞ্জাব কিংস। ২০২৪ সালে খেতাবজয়ী কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। তবে এশিয়া কাপের প্রথম এগারোয় আসার ক্ষেত্রে তিলক ভার্মার সঙ্গে লড়াই হতে পারে শ্রেয়সের। দেশের হয়ে ২৪ টি-২০ ম্যাচে ৭৪৯ রান রয়েছে তিলকের। স্ট্রাইক রেট দেড়শোরও বেশি। অন্যদিকে, আইপিএলে শ্রেয়স ছিলেন দুর্ধর্ষ ফর্মে। ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে ছ’শোর বেশি রান করেন তিনি। তবে একসঙ্গে দু’জনের খেলা মুশকিল।
শুভমান গিল নিশ্চিতভাবেই ঢুকছেন এশিয়া কাপের দলে। তিনি ভাইস-ক্যাপ্টেনও হবেন বলে বোর্ডসূত্রে খবর। ওপেনিংয়ে গিলের সঙ্গী সম্ভবত অভিষেক শর্মা। এই ফরম্যাটে ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছেন বাঁ-হাতি ওপেনার। দেশের হয়ে ১০ ইনিংসে স্ট্রাইক রেট প্রায় দুশো। তবে যশস্বী জয়সওয়ালের প্রতিভার কথাও ভাবতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে সম্প্রতি ওপেনিংয়ে অভিষেকের সঙ্গী হতেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু গিল দলে এলে সেই জুটি রাখা সম্ভব নয়। স্যামসনকে তাই সম্ভবত তিন নম্বরে নামানো হবে। চারে ক্যাপ্টেন সূর্য। পাঁচে শ্রেয়স বা তিলক। ছয়ে হার্দিক পান্ডিয়া। এরপর দুই অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল এবং ওয়াশিংটন সুন্দর। দুই পেসার সম্ভবত যশপ্রীত বুমরাহ ও অর্শদীপ সিং। বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে কুলদীপ যাদব বা বরুণ চক্রবর্তীকে দেখা যেতে পারে। দুবাইয়ের পিচে স্পিনারদের জন্য সহায়তা মজুত থাকলে একজন পেসার কমিয়ে কুলদীপ ও বরুণ, উভয়কেই খেলানো হতে পারে। অবশ্য বুমরাহকে এশিয়া কাপের সব ম্যাচে নাও খেলানো হতে পারে।
এছাড়া স্কোয়াডে থাকতে পারেন রিঙ্কু সিং, শিবম দুবে, ঈশান কিষান, ধ্রুব জুরেল, হর্ষিত রানা, রবি বিষ্ণোইরা। পেসার মহম্মদ সিরাজ জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের শেষ টি-২০ সিরিজের স্কোয়াডে ছিলেন না। তাঁকে এশিয়া কাপের দলে ফেরানো হবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। একইভাবে মহম্মদ সামিকে নিয়েও রয়েছে চর্চা। বুমরাহ ও সিরাজ, উভয়কেই যদি বিশ্রাম দেওয়া হয় তাহলে কি তাঁর জন্য দরজা খুলবে? কিন্তু ৩৪ বছর বয়সির ফিটনেস নিয়ে ধন্দ রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এনসিএ’তে রয়েছেন তিনিও। আগস্টের শেষে দলীপ ট্রফিতে অবশ্য সামির খেলার কথা।