Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব মেদিনীপুরে ১১ কলেজে সারপ্রাইজ ভিজিট, পড়ুয়াদের গড় উপস্থিতি মাত্র ৩০শতাংশ

পূর্ব মেদিনীপুরে ১১ কলেজের আচমকা পরিদর্শনে পড়ুয়াদের গড় উপস্থিতি মাত্র ৩০ শতাংশ। পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর রিপোর্ট। বিস্তারিত পড়ুন।

পূর্ব মেদিনীপুরে ১১ কলেজে সারপ্রাইজ ভিজিট, পড়ুয়াদের গড় উপস্থিতি মাত্র ৩০শতাংশ
  • ১৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশে পূর্ব মেদিনীপুরে একদিনে ১১টি কলেজ আচমকা পরিদর্শন করল কলেজসমূহের প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি। সেই পরিদর্শনে কলেজপড়ুয়াদের হাজিরার বেহাল ছবিটা ফুটে উঠেছে। বেশ কয়েকটি সেলফ ফিন্যান্সড বিএড কলেজে খাতায়-কলমে প্রিন্সিপাল থাকলেও বাস্তবে তিনি ছুটিতে। সামগ্রিক রিপোর্ট উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া হবে। মস্ত বড় কলেজ ভবন থাকলেও পড়ুয়ার সংখ্যা হাতে গোনা। গত কয়েকবছরের এই ট্রাডিশনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

Advertisement

গত ১৩জুলাই সোমবার কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজের ১০০তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। সেখানে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরে বেশ কয়েকটি কলেজে আচমকা পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই জেলার ১৬টি ডিগ্রি কলেজের প্রশাসক তথা জনশিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৪জুলাই অনির্বাণবাবু মুগবেড়িয়া কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন মিশ্র ও আমদাবাদের স্বর্ণময়ী যোগেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল রতন সামন্তকে নিয়ে একযোগে ১১টি কলেজ পরিদর্শন করেন। তার মধ্যে চারটি ডিগ্রি কলেজ ছিল। সেগুলি হল-দেশপ্রাণ মহাবিদ্যালয়, বাজকুল মিলনী মহাবিদ্যালয়, মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজ ও আমদাবাদের স্বর্ণময়ী যোগেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়। এছাড়া, হেঁড়িয়া, নাজিরবাজার, লোকাল বোর্ড, বাজকুল এলাকার সাতটি সেলফ ফিন্যান্সড বিএড কলেজও পরিদর্শন করেন।
আচমকা পরিদর্শনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। একটি হল, পড়ুয়াদের উপস্থিতি গড়পড়তা ৩০শতাংশ। বাকি ৭০শতাংশ পড়ুয়া গরহাজির। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চারটি ডিগ্রি কলেজের পাশাপাশি বিভিন্ন বিএড কলেজেও এই ছবি দেখা দিয়েছে। এমনিতেই গত পাঁচ-ছ’বছর কলেজে ভর্তি কমেছে। ক্লাসরুম ফাঁকা থাকছে। তার উপর ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের বেশিরভাগই আসছেন না। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনটি সেলফ ফিন্যান্সড বিএড কলেজে খাতায়-কলমে প্রিন্সিপাল থাকলেও বাস্তবে ছিলেন না। ওই সমস্ত কলেজের ম্যানেজমেন্টের দাবি, প্রিন্সিপাল ছুটিতে আছেন। তবে আদৌ ওই তিনটি কলেজে প্রিন্সিপাল আছেন কিনা-তা যাচাই হলে পরিষ্কার হবে।
সম্প্রতি বিএড ও ডিএলএড কলেজে বায়োমেট্রিক হাজিরা আবশ্যিক করা হয়েছে। প্রশিক্ষণরত পড়ুয়াদের থিওরি ক্লাস ও স্কুল ইনটার্নশিপে উপস্থিতি নিয়ে এনসিটিই’র স্পষ্ট নির্দেশ আছে। কোনো কারচুপি যাতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ