নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে বারোটায়। তার একঘণ্টার মধ্যে ডায়মন্ডহারবারের এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। ওই সময় তিনি এমপির কালীঘাটের বাড়িতেই ছিলেন। গ্রেপ্তারের আগে সুমিত যাতে পালাতে না পারেন, সেজন্য পটুয়াপাড়া, হাজরা সহ গোটা চত্বর ঘিরে রেখেছিল সিআইডি এবং এসটিএফের টিম। শালবনী জমি দুর্নীতি মামলাতেই সুমিতবাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আজ শুক্রবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে তোলার কথা। আপ্ত সহায়ককে জেরা করে জমি দুর্নীতির টাকা কোথায় গিয়েছে, তার ট্রেল খুঁজবেন তদন্তকারীরা।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, প্রসিদ্ধ তোলাবাজ সুমিত রায় গ্রেপ্তার হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ বাতিল হওয়ায় ১২১, কালীঘাট রোড থেকে সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তোলাবাজ ভাইপোর এক নম্বর কালেক্টর সুমিত রায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দিল্লিতে বলেছেন, সবে কান এসেছে। এবার কান টানলে, মাথাও আসবে। মাথা বসে আছে ক্যামাক স্ট্রিটে। মমতাপন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল দলের সদস্য নন সুমিত রায়। উনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্ডারে কাজ করতেন। তবে অভিষেকের বিদেশ যাত্রা এবং সুমিতের গ্রেপ্তার হওয়া সবটার মধ্যে ২ আর ২ মিলিয়ে ৪ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঋতব্রতপন্থী বিধায়ক মদন মিত্র।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে জাতীয় সড়কের ধারে থাকা সরকারি জমির রেকর্ড বদলে জাল নথি তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছিল। সিন্ডিকেটের মাথায় ছিলেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। ওই জেলার এক বাসিন্দা জমি কেনার জন্য সুজয়বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নথি যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, এগুলি সরকারি জমি। এরপরই শালবনী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেই এফআইআরে সুজয় হাজরা, সুমিত রায় সহ অনেকের নাম ছিল। এই মামলার সুমিতের খোঁজে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এমনকি সিআইডি তাঁর শ্বশুরবাড়ি বেহালাতেও যায়। ‘অন্তরালে’ থেকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এমপির আপ্ত সহায়ক। শীর্ষ আদালতের কাছ থেকে রক্ষাকবচ পেয়ে তিনি টানা সিআইডি জেরার মুখোমুখি হন। কিন্তু তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা সর্বোচ্চ আদালতে জানান। এমনকি পদবির বানান হেরফের করে তদন্তকারীদের অসহযোগিতা করছেন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সুমিতের আগাম জামিন মামলার শুনানি ছিল। আদালত জামিন আবেদন খারিজ করার পরেই আইজি অনুপ জয়সওয়ালের নেতৃত্বে সিআইডির একটি টিম অভিষেকের বাড়িতে হাজিন হয়। সঙ্গে আসে এসটিএফের টিম। তারা পটুয়াপাড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িড়ে পড়ে। সুমিতের গতিবিধির উপর নজর রাখতে টিমের কয়েকজন সদস্য মৃৎশিল্পী সেজে প্রতিমায় তুলিও বোলাচ্ছিলেন। চা বিক্রেতা-ক্রেতা সেজে দোকানে বসেছিলেন কয়েকজন। সুমিতের খোঁজে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। গেট বন্ধ ছিল। ডাকাডাকির পর বেলা সওয়া একটা নাগাদ নাগাদ গেট খোলা হয়। দেড়টা নাগাদ অভিষেকের বাড়ি থেকে সুমিতকে গ্রেপ্তার করে বের হয় সিআইডি। অভিযুক্তকে প্রথমে ভবানীভবনে নিয়ে আসা হয়। এরপর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।