


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্নাতক-স্নাতকোত্তরে ৪৫ শতাংশ নম্বর থাকলেই হবে। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নতুন নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন যোগ্য শিক্ষকরা। আবেদন করার জন্য মিলবে আরও ১০ দিন সময়। শুধু তা-ই নয়, আসন্ন উৎসব মরশুমের কারণে পিছিয়ে যাবে এসএসসির নিয়োগ পরীক্ষাও। বৃহস্পতিবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চের সাফ নির্দেশ, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরনো চাকরিতে বহাল থাকবেন যোগ্য শিক্ষকরা।
এসএসসির নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদনের সময়সীমা সমাপ্ত হয়েছে গত ২৭ জুলাই। আবেদনের ভুল-ভ্রান্তি সংশোধনের শেষদিন ছিল ১২ আগস্ট। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম এবং ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার দিন ধার্য রয়েছে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে তা আর হওয়া সম্ভব নয়। আগামী মাসের শেষেই দুর্গাপুজো। অক্টোবরে কালীপুজো, ছট। সেক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা পিছিয়ে যেতে পারে নভেম্বরে।
‘এসএসসির ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া কলুষিত’—এমনই কড়া মন্তব্য করে গত ৩ এপ্রিল পুরো প্যানেল বাতিলের রায় দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। যোগ্য-অযোগ্য মিলিয়ে চাকরি হারান ২৫ হাজার ৭৫২ জন। যদিও যোগ্য শিক্ষকদের বয়সের ছাড় সহ কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে শুরু হয়েছে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার এবং এসএসসি এবার নিয়ম করেছে, আবেদন করার জন্য স্নাতক-স্নাতকোত্তর স্তরে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। কারণ, এটাই ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের (এনসিটিই) নতুন বিধি। এই নিয়মের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল যোগ্য শিক্ষকদের একাংশ।
এদিন সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের ব্যাপক ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় রাজ্য সরকার ও এসএসসির আইনজীবীদের। আবেদনকারী শিক্ষকদের আইনজীবী অভিযোগ করেন, ঘুরপথে অযোগ্যদের ফের সুযোগ দিতেই যোগ্যতার মান বাড়ানোর চেষ্টা করছে রাজ্য। তা শুনেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার। রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা নিজেদের নয়নের মণি (ব্লু আইড বয়) প্রার্থীদের ঢোকানোর চেষ্টা করছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। লজ্জাজনক। শকিং। শেমফুল। যোগ্য শিক্ষক যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের কোনও দোষ ছিল না। যেহেতু গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই কলুষিত ছিল, তাই পুরো প্যানেল বাদ দিতে হয়েছে। তাই স্পষ্ট করে শুনে রাখুন, যোগ্য শিক্ষকদের কোনওভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। তাদের ক্ষেত্রে এনসিটিই’র নতুন বিধি কার্যকর হবে না। ৪৫ শতাংশ নাম্বার থাকলেই আবেদনের সুযোগ পাবেন।
আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, সামনেই দুর্গাপুজো। এদিকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নিয়োগ পরীক্ষা। স্কুলে শিক্ষকের অভাব, তাই কোনও ছুটি ছাড়াই টানা কাজ করে যাচ্ছেন যোগ্য শিক্ষকরা। তাই পরীক্ষায় বসার আবেদনে সময় দিন। আবেদনে সাড়া দেন বিচারপতিরা। আগামী ৩১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।