


লন্ডন: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ০-১ পিছিয়ে পড়ার পর টিম ইন্ডিয়াকে একহাত নিলেন সুনীল গাভাসকর। লোয়ার অর্ডারের রান না পাওয়া এবং জঘন্য ফিল্ডিং নিয়ে রীতিমতো সরব তিনি। সম্প্রচারকারী চ্যানেলে সানির মন্তব্য, ‘ইংল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিতে হবে। প্রতিপক্ষের পাঁচটি সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ওরা হাল ছাড়েনি। বরং দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের শেষ কয়েকটা উইকেটের জন্য ওরা ঝাঁপিয়েছিল। এখানেই পিছিয়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। কারণ, লোয়ার অর্ডার কিছু রান করলেও তা তফাত গড়ে দিতেই পারত। কিন্তু সেটা হয়নি। আর ফিল্ডিং খুবই খারাপ হয়েছে। শুধু যে ক্যাচ পড়েছে তা নয়, সামগ্রিকভাবেই খুব সাদামাটা ফিল্ডিং হয়েছে। টেস্টের উপযুক্ত ফিল্ডিং হয়নি।’
গাভাসকর অবশ্য বোলারদের সমালোচনা করেননি। তাঁর মতে, ‘ব্যাটিংয়ের জন্য পিচ দারুণ ছিল। তাই বোলারদের সমালোচনা করা ঠিক হবে না। যশপ্রীত বুমরাহ খুব ভালো বল করেছে। উল্টোদিকেও যদি কোনও বোলার চাপ বজায় রাখত, রান আটকাত, তাহলে ওর সুবিধা হতো। আশা করব, এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নেবে ক্রিকেটাররা। দ্বিতীয় টেস্টের আটদিন বাকি রয়েছে। সময়টা কাজে লাগাতে হবে।’ শুভমানদের উদ্দেশে অনুশীলনে ডুবে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গাভাসকর। তিনি বলেছেন, ‘আগামী দু-একদিন ছুটি নাও। তারপর কঠোর অনুশীলনে নেমে পড়ো। ঐচ্ছিক প্র্যাকটিসকে দূরে সরাও। দেশের হয়ে খেলতে এসেছ তোমরা। এমনভাবে নেটে ঘাম ঝরাও যাতে ম্যাচে সেরাটা দিতে পারো।’
এজবাস্টন টেস্টের প্রথম এগারোয় কুলদীপ যাদবকে দেখতে চান সানি। তাঁর কথায়, ‘বুমরাহ খেলুক বা নাই খেলুক, কুলদীপকে খেলানো হোক। শার্দূল ঠাকুরের জায়গায় দলে আসুক ও। কারণ বার্মিংহামের পিচে রিস্ট স্পিনারের জন্য সহায়তা থাকবে।’ একই মত প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকরেরও। তিনি বলেছেন, ‘কুলদীপকে দলে আনতেই হবে। শার্দূল ঠাকুরকে দিয়ে হবে না। অস্ট্রেলিয়া সফরের পারফরম্যান্সের নিরিখে প্রথম টেস্টে আমি নীতীশ রেড্ডিকে চেয়েছিলাম। কিন্তু এতে দলের ভারসাম্য নষ্ট হবে। ওর বোলিং মোটেই চতুর্থ সিমারের মতো নয়। জিততে হলে ভারতীয় দলকে বিশেষজ্ঞ বোলার খেলাতেই হবে। তার জন্য প্রয়োজনে দু’জন স্পিনারকেও খেলানো হোক। একজন সিমারকে বসিয়ে কুলদীপকে খেলানো উচিত। কন্ডিশন যাই হোক, সেরা বোলার খেলানো জরুরি।’ রবীন্দ্র জাদেজার পারফরম্যান্সে হতাশ মঞ্জরেকর। তাঁর যুক্তি, ‘শেষদিনের পিচের ফায়দা নিতে পারেনি জাদেজা। অথচ পিচে বেশকিছু ক্ষতচিহ্ন ছিল। জাদেজার যা অভিজ্ঞতা তাতে অনেক বেশি প্রত্যাশা থাকারই কথা। অভিজ্ঞদের থেকেই তো ট্যাকটিক্যাল সচেতনতা আশা করব। কিন্তু জাদেজা পিচ থেকে সাহায্য পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ।’
গাভাসকর আবার এখনই বসাতে চান না সাই সুদর্শন ও করুণ নায়ারকে। তিনি বলেছেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টেও পারফরম্যান্স না করলে ওদের বসানো যায়। এখনই বাদ দিতে চাইছি না। প্রয়োজনে সুন্দরকেও খেলানো যায়। এতে ব্যাটিং গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি বোলিংয়েও বৈচিত্র্য আসবে।’