Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুখেন্দুশেখর রায় গেরুয়া শিবিরে, বৃত্ত হল সম্পূর্ণ

বিজেপিতে যোগ দিয়ে সুখেন্দুশেখর রায় রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেয়েছেন। মালদহের রাজনৈতিক মহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিস্তারিত পড়ুন।

সুখেন্দুশেখর রায় গেরুয়া শিবিরে, বৃত্ত হল সম্পূর্ণ
  • ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: বিজেপিতে যোগদান করে সুখেন্দুশেখর রায় রাজ্যসভায় মনোনয়ন পাওয়ায় একটি রাজনৈতিক বৃত্ত সম্পূর্ণ হল বলেই মনে করছে মালদহের রজনৈতিক মহল। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে বিচরণ করা সুখেন্দুশেখর আসলে মালদহের ভূমিপুত্র। ইংলিশবাজার শহরের মকদুমপুর এলাকাতেই তাঁর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদ থেকে হলেও ২০১১ সালে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তাঁর বাবা শিবেন্দুশেখর রায় অবশ্য ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ অনুগামী এবং হিন্দু মহাসভার পদাধিকারী। সেই দিক থেকে সুখেন্দুশেখরের বিজেপিতে যোগদান এক ধরনের ‘ঘর ওয়াপসি’ বলেও মনে করছেন জেলা বিজেপির অনেক নেতা-কর্মীই।

Advertisement

এবছর জানুয়ারিতে মালদহে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন উদ্বোধনের পর একটি জনসভায় শিবেন্দুশেখর রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিবেন্দুবাবুর তৈলচিত্র প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হয় রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে। নতুন করে চর্চায় আসে শিবেন্দুশেখর রায়ের ভূমিকা। 
দেশভাগের সময় মালদহকে পূর্ব পাকিস্থানের (অধুনা বাংলাদেশ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিষয়টি আশঙ্কা করে আগে থেকেই মালদহের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের নিয়ে লড়াই শুরু করেন শিবেন্দুবাবু। তিনি পাশে পান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। তাঁদের অসামান্য ভূমিকা পালনের কারণেই ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মালদহের ভারতভুক্তি হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র থাকাকালীনই তৎকালীন উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দ্বারা গভীর ভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন শিবেন্দুশেখর। পরে শ্যামাপ্রসাদ প্রতিষ্ঠিত হিন্দু মহাসভাতে যোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে ছাত্র পরিষদ থেকে উঠে আসা সুখেন্দুশেখরের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বরকত গনিখান চৌধুরী, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় প্রমুখ। পরে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে ওঠেন সুখেন্দুশেখর। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে যোগ দেন তৃণমূলে। রাজ্যসভাতে তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় ভূমিকাও পালন করেন পেশায় উচ্চ আদালতের আইনজীবী সুখেন্দুশেখর। আরজি কর আন্দোলনের সময় সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন তিনি। এরপরই তৃণমূলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। রাজ্যে তৃণমূলের পরাজয়ের পর তিনি ইস্তফা দেন রাজ্যসভা থেকে। সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যসভায় নতুন করে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। 
মালদহ দক্ষিণ জেলা বিজেপির সহসভাপতি মানবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, মালদহের ভারতভুক্তিতে শিবেন্দুশেখর রায়ের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তাই ছেলে সুখেন্দুশেখরের বিজেপিতে যোগদান তাঁর ঘরে ফেরার শামিল। ইংলিশবাজারের বিধায়ক এবং রাজ্য সরকারের মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, সুখেন্দুশেখর রায় সুবক্তা এবং গবেষক। তিনি বিজেপির ঘরানারই সদস্য পরিবার সূত্রে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ