Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেল সাইডিংয়ে তোলাবাজি ও সিমেন্ট দুর্নীতিতে নাম সুজয়ের

মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে সিমেন্ট দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত জানুন এই কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে।

রেল সাইডিংয়ে তোলাবাজি ও সিমেন্ট দুর্নীতিতে নাম সুজয়ের
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বেলদা: জমি ও চাকরি কেলেঙ্কারির পর এবার এক নতুন বিতর্কে জড়ালেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের বিদায়ী সভাপতি সুজয় হাজরা। দাঁতন থানার নেকুড়সেনি রেল সাইডিংয়ের সিমেন্ট রেকে আর্থিক তছরুপ এবং তোলাবাজির অভিযোগে সুজয় হাজরার ঘনিষ্ঠ বিদায়ী দাঁতন ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মণিশঙ্কর মিশ্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে দাঁতন আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে খবর, একই অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়ক সুজয়কেও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নেকুড়সেনি রেলওয়ে স্টেশন সাইডিং পরিচালনাকারী একটি সিমেন্ট কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার দেওয়া গত ২৩ মার্চের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ৬১(২) ধারা ও সম্মিলিত অপরাধের ৩(৫) ধারা। এছাড়াও বলপূর্বক তোলা আদায়ের অভিযোগের ৩০৮(৩) ধারা, সংঘবদ্ধ অপরাধের জন্য ১১১ ধারা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ৩৫১(২) বা অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ৩০০ শ্রমিক ও ২০০ ট্রাক মালিককে নিয়ে সেখানে কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ শুরুর পরেই তৃণমূল নেতা মণিশঙ্কর মিশ্র এবং শীর্ষ নেতা সুজয় হাজরা মিলে ওই সংস্থার কাছে নিরাপত্তা বাবদ প্রায় ১ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন‌। ব্যবসায়ী সংস্থা সেই অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করলে রেল সাইডিংয়ের কাজে ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করা হতে থাকে। ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের কাজে হস্তক্ষেপ করে বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়। অবশেষে ব্যবসা বাঁচাতে সংস্থার প্রতিনিধিরা সুজয় হাজরা ও মণিশঙ্কর মিশ্রের মধ্যস্থতায় আয়োজিত বেশ কয়েকটি বৈঠকে যোগ দেন। অভিযোগকারী জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে তাঁরা এই দুই নেতাকে বিপুল টাকা দিতে বাধ্য হন। এমনকি শ্রমিকদের পাওনা এবং লোডিং-আনলোডিং খরচের একটি অংশ মণিশঙ্কর ও তাঁর দলবল জোরপূর্বক আদায় করে নিতেন।
এরপরও নতুন করে দাবি-দাওয়া চলতে থাকে। এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় আরও ২০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও ক্রমাগত জীবননাশের ও ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। চরম আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক যন্ত্রণার মুখে দাঁড়িয়ে অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ওই সংস্থা। এদিন দাঁতন থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় মণিশংকর মিশ্র বিপুল ক্ষোভের মুখে পড়ে। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে চোর চোর ধ্বনি দিতে থাকে বিক্ষুব্ধ মানুষজন। মণিশংকরকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোঁড়া হয়।
জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, শুধু নেকুড়সেনী নয়, জেলার গড়বেতা সহ অন্যান্য রেকগুলিতেও এভাবে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজি করেছে সুজয় হাজরা ও তার ঘনিষ্ঠরা। সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হোক।সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে এর আগেও জমি ও চাকরি নিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্লক সভাপতি মণিশঙ্কর গ্রেপ্তার হওয়ায় এবং সুজয় হাজরার নাম সরাসরি এই কেলেঙ্কারিতে জড়ানোয় জেলা রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ