নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নথি জালিয়াতি করে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের সরকারি জমি বেচে দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। সেই তদন্তে এবার তাদের হাতে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা এই সরকারি জমি বিক্রির টাকা যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে পাঠিয়েছেন, তার প্রমাণ হিসাবে চিরকুটে সমস্ত কিস্তির হিসাব লিখে রাখতেন। টাকা পাঠানোর পর মেসেজও করে রাখতেন সুমিতকে। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে এমন একাধিক চিরকুট উদ্ধার করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। এই অবস্থায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আরজি জানিয়ে স্থানীয় আদালতে আবেদন করছে তারা। পাশাপাশি, তিনি যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন, তার জন্য সমস্ত বিমানবন্দরে ‘লুক আউট’ নোটিস জারি করা হচ্ছে।
অভিযোগ, ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের সরকারি জমির জাল নথি তৈরি করে বিক্রির সিন্ডিকেট চালাচ্ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। তদন্তে উঠে এসেছে, এভাবে প্রায় ৩০০ বিঘা জমি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। রোজগরে করেছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। এক্ষেত্রে যাবতীয় পেমেন্ট তিনি নগদে নিতেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুজয় দাবি করেছেন, সরকারি জমি বিক্রি থেকে আসা টাকার একটা অংশ তিনি পাঠাতেন সুমিত রায়ের কাছে। টাকা পাঠানোর প্রমাণ হিসাবে নিজের কাছে একটা হিসাব রাখতেন। পরে সেই চিরুকূট থেকে হিসাব তুলতেন একটি ডাইরিতে। একথা জানার পর পুলিশ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। উদ্ধার হয় ওই চিরকুট। সুজয় জেরায় তদন্তকারীদের আরও জানিয়েছেন, তিনি নিজে এই টাকা পৌঁছে দিতেন সুমিতের কলকাতার অফিসে। তার প্রমাণ পেতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। টাক দিতে আসার সময় সুজয় তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকে সঙ্গে নিয়ে আসতেন। তবে তাঁদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি ছিল না। এমনকি, টাকা পাঠানোর আগে তিনি বাড়িতে টাকার ভিডিয়ো করে রাখতেন। কোন কাগজে টাকা মোড়া হচ্ছে, সেটির ভিডিয়ো করা হত, যাতে কোনো সংশয় তৈরি হলে ওই ভিডিয়ো দেখিয়ে প্রমাণ করা যায়। তাঁর মোবাইলে এই ধরনের একাধিক ভিডিও মিলেছে খবর। প্রতি মাসে টাকা পাঠানো হত। এর বাইরেও অনেক সময় টাকা পাঠিয়েছেন বলে সুজয়ের দাবি। সুমিতের সঙ্গে সুজয়ের একাধিক মেসেজ লেনদেনেও তার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সার্বিক তদন্তে এই মেসেজগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লু’ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। বিগত পাঁচ বছরে এভাবে সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকা গিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তাঁদের হাতে তথ্য এসেছে। এই টাকা সুমিতের কাছ থেকে কোথায় এবং কার কাছে গিয়েছে, সেটা জানতে সুমিতকেই জেরা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাঁর খোঁজ না মেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন করছে জেলা পুলিশ।