নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মাথার উপর ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি এখন জেলে। এলাকায় যিনি নেতৃত্ব দিতেন সেই নির্মল দত্ত, এমনকি বিদায়ী কাউন্সিলারও ঘরছাড়া। মাস দু’য়েক আগেও সল্টলেকের সবুজ দুর্গ ছিল দত্তাবাদ। কিন্তু, পালাবদলের পর থেকে সেই দুর্গ এখন তৃণমূলের ‘পড়ন্ত জমিদারি’। অভিভাবকরা নেই। তাই কর্মীরাও তৃণমূল হিসাবে পরিচয় দিতে সাহস দেখাচ্ছেন না কেউ। ফাঁকা ময়দানে সংগঠনে জোর দিয়েছে বিজেপি। যে দত্তাবাদে পদ্মফুলের পতাকা তোলার লোক ছিল না, সেখানেই তৈরি হয়েছে নতুন পার্টি অফিস। গেরুয়া রঙের সেই অফিসের বাইরে পতপত করছে গেরুয়া ঝান্ডা।
সল্টলেক দত্তাবাদের মধ্যে রয়েছে বিধাননগর পুরসভার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৯টি বুথ এবং ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৪টি বুথ। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার নির্মল দত্ত ছিলেন এলাকার নেতা। তিনিই মূলত সংগঠনের বড়ো অংশ সামলাতেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী আলো দত্ত বিদায়ী কাউন্সিলার। নির্মলবাবুরা সুজিত বসুর নেতৃত্বে দল করতেন। প্রতিবারই ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূলকে লিড দিয়েছে। এমনকি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের ৯টি বুথেই লিড পেয়েছেন পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজিত বসু। তাতে রাগ বেড়েছে বিজেপিরও।
নির্বাচনের আগের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে নির্মলবাবু গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে অবশ্য জামিন পান। পালাবদলের পর থেকে তিনি ঘরছাড়া। কাউন্সিলার থাকাকালীন তাঁর স্ত্রীও ঘরছাড়া। তাঁদের বাড়ি তিনবার লুটপাট হয়েছে। তাঁর স্ত্রী বাড়ি ফিরতে চেয়ে বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন বলেও শোনা যায়। তবে, এখনও ফিরতে পারেননি। তাই বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিডনির অসুখে ভুগছেন নির্মলবাবু। চিকিৎসাও করাতে যেতে পারছেন না। বহু তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া। এমন অবস্থায় বিজেপি এখন দত্তাবাদে পদ্মফুল ফোটানোর জন্য সংগঠনে জোর দিয়েছে। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বাইপাস সংলগ্ন দত্তাবাদে রবিবার একটি পার্টি অফিসও উদ্বোধন করেছে বিজেপি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নিজে গিয়ে সেটি উদ্বোধন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এতবছরের অত্যাচারে, লাঞ্চনার অবসান হল। এই অফিস নারীশক্তির জয়।
অন্যদিকে, ঘরছাড়া প্রাক্তন কাউন্সিলার নির্মলবাবু জানিয়েছেন, আমরা চাই দত্তাবাদে শান্তি ফিরুক। শাসক-বিরোধী একসঙ্গে থাকি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আমার আবেদন, যেন আমরা ঘরে ফিরতে পারি।