নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ৭ হাজার ১৯৩ থেকে ১১ হাজার ৬৩৪। ২০১৮ থেকে ২০২২ - এই পাঁচ বছরে সারা দেশে শুধুমাত্র মাদকাসক্তির কারণে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানেই শেষ নয়। মাঝের বছরগুলিতেও আক্ষরিক অর্থেই লাফিয়ে বেড়েছে মাদকের কারণে আত্মহত্যার সংখ্যা। মঙ্গলবার সংসদে এমনই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান পেশ করেছে সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রক। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নেশার কবলে পড়ে আত্মহত্যার ঘটনায় দেশের মধ্যে শীর্ষে থাকা তিনটি রাজ্যের মধ্যে দু’টিই বিজেপি শাসিত।আর বাংলার ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র। কেন্দ্রে খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে, সারা দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। অধিকাংশ রাজ্যে যেখানে মাদকাসক্তির কারণে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে বাংলায় এই সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পেয়েছে। শুধু তাই নয়। ২০২১ ও ২০২২ সালে বাংলায় মাদকাসক্তির কারণে আত্মহত্যার কোনও ঘটনা ঘটেনি।
মঙ্গলবার লোকসভায় এব্যাপারে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লা এবং টিডিপির এমপি বিকে পার্থসারথির প্রশ্নের লিখিত জবাবে এদিন লোকসভায় ওই পরিসংখ্যান পেশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী বিএল ভার্মা। দেখা যাচ্ছে, মাদকাসক্তির কারণে সারা দেশে ২০১৮ সালে ৭ হাজার ১৯৩ , ২০১৯ সালে ৭ হাজার ৮৬০, ২০২০ সালে ৯ হাজার ১৬৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। ২০২১ এবং ২০২২ সালে এই সংখ্যাটি যথাক্রমে ১০ হাজার ৫৬০ ও ১১ হাজার ৬৩৪। ২০২২ সালে নেশার কারণে আত্মহত্যার সংখ্যার নিরিখে যে দু’টি বিজেপি শাসিত রাজ্য প্রথম তিনে রয়েছে, সেগুলি হল মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশ।
এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোদি সরকার যেসব নেশামুক্তি কর্মসূচি চালু করেছে, সেগুলির বাস্তবায়ন কি যথাযথভাবে হচ্ছে না? এই বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলায় একাধিক সামাজিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি রয়েছে। তারই ইতিবাচক প্রভাব এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। কারণ স্কুল ছুটের সংখ্যা, বেকারত্ব কমলে তাহলে স্বাভাবিক নিয়মেই মাদকাসক্তির প্রবণতা কমতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের এই ইতিবাচক ছবিই কেন্দ্রের রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে।’ এদিনের পরিসংখ্যানে মন্ত্রক জানিয়েছে, উল্লিখিত পাঁচ বছরে নেশামুক্তি কেন্দ্রের মাধ্যমে মাদকাসক্তির কবল-মুক্ত হওয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে দেশে নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লক্ষ ৮ হাজার ৪১৫ জন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় আট লক্ষ।