নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ ভারত ছাড়া গোটা দেশজুড়ে বর্ষা এখন সক্রিয়। মৌসুমি অক্ষরেখা, ‘শিয়ার জোন’ ও একাধিক ঘূর্ণাবর্তের জন্য এটা হয়েছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। উত্তর ভারত থেকে বিস্তৃত বর্ষার মেঘপুঞ্জ হিমালয় পেরিয়ে চীন হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার কিমি এলাকায় বিস্তৃত। অভূতপূর্ব বিষয়টি উপগ্রহ চিত্রে ধরাও পড়েছে। সাধারণ বা বেশি মাত্রার বর্ষার বৃষ্টি তো পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে হচ্ছে। তবে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিতে সবথেকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গুজরাত। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সেখানকার ভালসাদ জেলার উমেরগামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০৬৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। দেশে ১৪ ঘণ্টায় সর্বকালীন অধিক বৃষ্টিপাতের নিরিখে এটা তৃতীয়। মেঘালয়ের সোহরা ১৫৬৪ ও লাক্ষাদ্বীপের আমিনডিভিতে ১১৬৮ মিমি বৃষ্টিপাতের নজির অতীতে আছে। দক্ষিণ গুজরাত ও লাগোয়া কেন্দ্রশাসিত এলাকা দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন-দিউয়ের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্যাপক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ট্রেন চলাচল এবং সড়ক পরিবহণও ব্যাহত হয়েছে। জল ঢুকেছে শহর ও গ্রামে।
এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত পশ্চিমবঙ্গেও বর্ষা সক্রিয় থাকবে। আজ শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সাধারণভাবে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টি হবে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় রবিবার থেকে কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
রাজস্থানের জয়সলমির থেকে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। আরব সাগর থেকে একটি ‘ইস্ট-ওয়েস্ট শিয়ার জোন’ দক্ষিণ গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, দক্ষিণবঙ্গ, বাংলাদেশ হয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত আছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, ‘শিয়ার জোন’ পরিস্থিতিতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ে। বায়ুমণ্ডলে পুবালি ও পশ্চিমি বাতাস পরস্পর বিপরীত দিক থেকে থেকে প্রবাহিত হলে শক্তিশালী বৃষ্টির মেঘ তৈরি হয়। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর দুদিক থেকেই জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ঢুকছে। দক্ষিণ গুজরাতের উপর দিয়ে শিয়ার জোন যাওয়ার পাশাপাশি কাছাকাছি একটি ঘূর্ণাবর্ত থাকার জন্য বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়ে গিয়েছে।
দেশের আরও বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণাবর্ত থাকার কারণে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। হিমালয় পার করে আসা একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ঘূর্ণাবর্ত হিসাবে জম্মু ও লাগোয়া এলাকার উপর আছে। মধ্য অসম ও লাগোয়া এলাকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থান ও লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত আছে। ফলে সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা, শিয়ার জোন ও একাধিক ঘূর্ণাবর্তের জন্য আগামী তিন-চার দিন দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশ, মধ্য ও লাগোয়া উত্তর ভারত, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতজুড়ে বর্ষা সক্রিয় থাকবে বলে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। দক্ষিণ ভারতে আগামী দিনসাতেক বর্ষা বিশেষ সক্রিয় থাকবে না। অর্থাৎ সেখানে বৃষ্টি কম হবে। জুন মাস থেকে এখনো পর্যন্ত দেশে সার্বিকভাবে দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ১৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। দেশের চারটি অংশের মধ্যে পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে ৩২ শতাংশ, উত্তর-পশ্চিমে ১০ শতাংশ, মধ্য ভারতে ৬ শতাংশ এবং দক্ষিণে ২৬ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। গড়ের থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কম বৃষ্টি হলেও সেটিকে ‘স্বাভাবিক’ বলা হয়।